শনিবার, জুলাই ১৩, ২০২৪
spot_img

কাউন্সিলরের শেল্টারে বেপরোয়া শ্রমিক নেতার দখল বাণিজ্য

সিদ্ধিরগঞ্জ প্রতিনিধিঃ নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের এসও রোড গোদনাইল এলাকায় রেলওয়ের জায়গা দখল করে “টু কুইন” নামক একটি হোটেল এবং রেষ্টুরেন্ট নির্মান করেছেন বাংলাদেশ ট্যাংকলরী শ্রমিক ইউনিয়ন গোদনাইল মেঘনা ডিপো শাখার সভাপতি আশরাফ উদ্দিন।
বুধবার (২৪ জানুয়ারি) সকালে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের (নাসিক) ৬ নং ওয়ার্ডের এসও রোড গোদনাইল এলাকায় সরেজমিনে গেলে ঘটনার সত্যতা পাওয়া যায়।

সূত্রে জানা যায়, টার্মিনালের জন্য বাংলাদেশ রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে লিজ নেন গোদনাইল মেঘনা পেট্রোলিয়াম ডিপো শাখা কর্তৃপক্ষ। যার মূল পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন করেন অবৈধ সম্পদ অর্জনের দায়ে দু’দকের দায়ের করা মামলার চার্জশিট ভুক্ত আসামি দুর্নীতির বড় পুত্র কাউন্সিলর মতিউর রহমান মতির সেকেন্ড ইন কমান্ড হিসেবে পরিচিত এই শ্রমিক নেতা আশরাফ উদ্দিন। মূলত মেঘনা ডিপো শাখার নামে সরকার লিজ দিলেও মেঘনা ডিপোর অসাধু কর্মকর্তাদের যোগসাজশে উক্ত যায়গার মূল অংশ জুড়েই নির্মান করা হয়েছে “টু কুইন” নামক রেষ্টুরেন্ট ও একাধিক দোকান। এতে করে মেঘনা ডিপো কর্তৃপক্ষ যে টার্মিনালের উদ্দেশ্য এই জমি সরকার থেকে লিজ নিয়েছেন তা কতটুকু বাস্তবায়ন হবে তা নিয়েই সংখ্যা দেখা দিয়েছে স্থানীয়দের মাঝে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, নির্মান কাজ শেষ হলে বেশ কিছুদিন আগে উদ্বোধন করা হয় “টু কুইন” নামক এই রেষ্টুরেন্টটি। তবে রেষ্টুরেন্টটি শ্রমিক নেতা আশরাফ উদ্দিনের মালিকানায় থাকলেও দোকানগুলো ভাড়া দেওয়া হয়েছে মোটা অংকের টাকা অগ্রিম নিয়ে। সরকারি যায়গায় মোটা অংকের টাকা দিয়ে ভাড়ায় দোকান চালানো নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন ব্যবসায়ীরা।

স্থানীয়রা আরও জানান, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামী যুবলীগের আহবায়ক ও নাসিক ৬ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মতিউর রহমান মতির সেকেন্ড ইন কমান্ড হিসেবে পরিচিত এই শ্রমিক নেতা আশরাফ উদ্দিন। দুর্নীতির বড়পুত্র ও রাজাকার মৃত বাদশা মিয়ার ছেলে মতিউর রহমান মতির শেল্টারেই মূলত দিনদিন বেপরোয়া হয়ে উঠেছে এই আশরাফ। সরকারি যায়গা দখল, তেল চোর চক্রের নিয়ন্ত্রণসহ বেশ কয়েকটি অপরাধ সাম্রাজ্য নিয়ন্ত্রণ করেন এই আশরাফ উদ্দিন। তিনি নিজেকে একটি কথিত পত্রিকার প্রকাশক দাবি করলেও সেই পত্রিকাটি বর্তমানে বন্ধ রয়েছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে পত্রিকার মালিকানা নিয়ে ঝামেলার কারনে বর্তমানে পত্রিকাটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। আর এই কথিত পত্রিকার নাম বিক্রি করে সাধারণ মানুষকে বিভিন্ন ভয়ভীতি দেখিয়ে জিম্মি করে রেখেছেন তিনি। এই আশরাফ এক সময়ে বিরোধী রাজনৈতিক দল বিএনপির রাজনীতি করতেন বলে জানান স্থানীয়রা। আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে নিজের অবৈধ ভাবে উপার্জিত অর্থ সম্পদ টিকিয়ে রাখতেই তিনি বিএনপি ছেড়ে আওয়ামী লীগে যোগ দেন।

এদিকে শ্রমিক নেতা আশরাফ যার শেল্টারে চলেন তিনি হলেন সমালোচিত ব্যাক্তি সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামী যুবলীগের আহবায়ক ও নাসিক ৬ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মতিউর রহমান মতি। অবৈধ সম্পদ অর্জন ও অর্থ পাচারের ঘটনায় দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা মামলার চার্জশিট ভুক্ত আসামি যুবলীগের এই নেতা। পরবর্তীতে তার বিরুদ্ধে আদালত পরোয়ানা জারি করলে গ্রেফতার এড়াতে বেশ কিছুদিন পলাতক ছিলেন। আদালতে আত্মসমর্পন করে কারাভোগের পর সম্প্রতি তিনি জামিনে বেরিয়ে আসেন।

এদিকে ক্ষোভ প্রকাশ করে স্থানীয়রা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, আশরাফ এক সময়ে বিএনপির রাজনীতি করতেন। তখন থেকেই এলাকায় প্রভাব খাটিয়ে মেঘনা ডিপোকে জিম্মি করে অবৈধভাবে হাতিয়ে নিয়েছেন কোটি কোটি টাকা। তার এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে পত্রিকায় একাধিক সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। তার এসব অপকর্ম আড়াল করতেই মূলত তিনি (আশরাফ) নিজেকে কথিত সাংবাদিক দাবি করেন। ওই এলাকায় যেকোন অপরাধ জনিত ঘটনা ঘটলে নিজের লোকদের বাঁচাতে দৌড়ে চলে আসেন স্থানীয় লোকাল থানায়। করেন বড় বড় তদবিরও। তার টাকার কাছে অসহায় হয়ে পরেন সাধারণ মানুষ। আশরাফের এসব অবৈধ সম্পদ উপার্জনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কর্মকর্তাদের দৃষ্টি আকর্ষন করেন স্থানীয়রা।

বিষয়টি জানতে চাইলে ট্যাংকলরী শ্রমিক ইউনিয়ন গোদনাইল মেঘনা ডিপো শাখার সভাপতি আশরাফ উদ্দিন মুঠোফোনে বলেন, এখানে ৮৫ শতাংশ জমি সরকার থেকে লিজ নিয়েছে মেঘনা পেট্রোলিয়াম কর্তৃপক্ষ। এর সব কিছুই আমি (আশরাফ উদ্দিন) দৌড় ঝাপ করে নিয়ে এসেছি। সরকারি যায়গায় আপনি কিভাবে রেষ্টুরেন্ট নির্মাণ করেছেন এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন এটা আমি আপনাকে বলবো না। আপনি অবজেকশন (বাঁধা) দেওয়ার কে? অবজেকশন (বাঁধা) দিলে মেঘনা ডিপো কর্তৃপক্ষ দিবে। আপনি নিউজ করেন। এটা আমাদের ইন্টার্নাল বিষয় বলে ফোন রেখে দেন তিনি।

এ বিষয়ে গোদনাইল মেঘনা ডিপো শাখার ইনচার্জ লুৎফর রহমান মুঠোফোনে জানান, রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে আমরা টার্মিনালের জন্য প্রায় এক একর জমি লিজ নিয়েছি। লিজকৃত জমিতে শ্রমিক নেতার রেষ্টুরেন্ট নির্মাণের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটা আমি জবাব দিতে পারবো না। কারন তারা প্রভাবশালী লোক।

আমরা এখানে বসবাস করি আসলে আমার মন্তব্য এখানে নিষ্প্রয়োজন। তিনি ( আশরাফ উদ্দিন) তো পুরো মূল অংশটাই দখল করে নিয়েছেন। সে রেল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে লিজ নিয়েছে কিনা জানি না। আমাদের এমডি স্যার এ বিষয়ে রেলওয়ের কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি দিয়েছেন। বাকিটা আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বলতে পারবে বলে জানান তিনি।

আরো দেখুন
Advertisment
বিজ্ঞাপন

সবচেয়ে জনপ্রিয়