সোমবার, ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০২৪
spot_img

১৬ বছর ধরে অকেজো রাবার ড্যাম, ২৪০০ হেক্টর জমিতে চাষাবাদ ব্যাহত

সংবাদ সিক্সটিনঃ নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার সনমান্দি, সাদিপুর ও নোয়াগাঁও এই তিনটি ইউনিয়নের কয়েক হাজার কৃষি পরিবারের জন্য ইরি, বোরো ধান চাষে সেচ ব্যবস্থায় ব্র‏ম্মপুত্র নদের উপর ২০০৪ সালে রাবার ড্যাম স্থাপন করা হয়। এটি দেশে নির্মিত অষ্টম রাবার ড্যাম। রাবার ড্যাম স্থাপনের তিন বছরের মাথায় রাবার ড্যামটি নষ্ট হয়ে যাওয়ার ফলে দীর্ঘদিন যাবৎ স্থানীয় কৃষকরা এর সুফল থেকে বঞ্চিত, ব্যাহত হচ্ছে চাষাবাদ।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সোনারগাঁ উপজেলার সনমান্দি ইউনিয়নের অলিপুরা বাজারের পাশে ব্রম্মপুত্র নদের উপর ২০০৪ সালে ৫৫ মিটার দৈর্ঘ্য ও ৩ দশমিক ৮ মিটার উচু রাবার ড্যামটি স্থাপন করা হয়। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডির) অধীনে এই রাবার ড্যাম এবং এর পাশে ১৪৪ মিটার দৈর্ঘ্য ও ৪ দশমিক ২৬ মিটার প্রস্থ্যের একটি সেতু নির্মাণ করতে সরকারের প্রায় পাঁচ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে।

রাবার ড্যামটি তৈরি করা হয়েছিল মূলত উপজেলার সনমান্দি, সাদিপুর ও নোয়াগাঁও ইউনিয়নের ৩৫ টি মৌজার ২ হাজার ৪ শত হেক্টর ইরি, বোরো ধানের জমিতে সেচের পানি সরবরাহ করার জন্য। সে সময় মন্ত্রণালয়ে অনেক দৌড়ঝাঁপ করে এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হয়। এই প্রকল্পের মাধ্যমে স্থানীয় কৃষকেরা ১৬ বছর ধরে সেচ ব্যবস্থার কোন সুফল পাচ্ছে না।

স্থানীয় অলিপুরা বাজার এলাকার কয়েকজন কৃষকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রায় ১৬ বছর ধরে রাবার ড্যামটিতে পানি আটকানো যাচ্ছেনা। যার ফলে সেচ মৌসুমে প্রয়োজনীয় পানি না পাওয়ায় বোরো ধানের চাষাবাদ করতে পারছেন না স্থানীয় কৃষকেরা। তাদের দাবী রাবার ড্যামটি পূনরায় সংস্কার করা হলে ওই এলাকার শতশত কৃষক পরিবার জমিগুলোতে চাষাবাদ করতে পারবে।

জানা গেছে, রাবার ড্যামটি দেখাশোনার জন্য এর সুবিধাভোগী মানুষের মধ্য থেকে একটি সমবায় সমিতি গঠন করা হয়। এই সমিতির দায়িত্ব হচ্ছে রাবার ড্যামটির দেখভাল করা, প্রতি বছর ড্যাম ফুলিয়ে পানি আটকে রাখা এবং ওই পানি ধান চাষে সেচের কাজে ব্যবহার নিশ্চিত করা। কিন্তু সমিতির সদস্যরা সরকারের উপর দায়িত্ব ছেড়ে দিয়ে বসে আছেন। শুধু তাই নয়, তারা ওই সমিতির নাম ভাঙিয়ে অলিপুরা এলাকায় সরকারি যায়গা দখল করে দোকান নির্মাণ কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার ফরহাদ জামান বলেন, রাবার ড্যামটি চালু হওয়ার পর উপজেলার চারটি ইউনিয়নের কয়েক হাজার কৃষক তাদের ইরি, বোরো ধানের জমিতে সেচ দিতে এই পানি ব্যবহার করতেন। সেচ মৌসুমে পানি পেতে যেন সমস্যা না হয়, সে জন্য রাবার ড্যামটি নির্মাণ করা হয়। কিন্তু শুস্ক মৌসুম শুরুর আগে ড্যামটিতে পানি আটকে রাখা যাচ্ছেনা। রাবার ড্যামটি এখন নষ্ট হয়ে পড়ে রয়েছে। এটি মেরামতে অনেক অর্থের প্রয়োজন। রাবার ড্যামটি পুণরায় সংস্কার করা হলে ওই এলাকার কৃষকরা জমিগুলোতে আবাদ করতে পারবে এবং দেশের অর্থনীতিতে ব্যপক লাভবান হবে।

আরো দেখুন
Advertisment
বিজ্ঞাপন

সবচেয়ে জনপ্রিয়