মঙ্গলবার, এপ্রিল ২৩, ২০২৪
spot_img

এক সময়ের ফেনসিডিল ব্যবসায়ী এখন নামধারী সাংবাদিক

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ রাজধানীর মিরপুর-১২ নম্বর সিরামিক বস্তিতে বেড়ে ওঠা এস এম জহিরুল ইসলাম এক সময় করতেন ফেনসিডিল ব্যবসা। এমনকি মিরপুর পল্লবী থানা ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতিও তিনি। সেই জহিরুল নিজেকে এখন সবার কাছে বলে বেড়াচ্ছেন সে নাকি সাংবাদিক।

বেসরকারি একটি টেলিভিশনের নাম ভাঙ্গিয়ে চাঁদাবাজির মহা উৎসবে মেতে উঠেছেন তিনি। বিভিন্ন সময়ে মানুষকে হুমকি-ধামকি দিয়ে টাকা আদায় করছে। এই জহিরুল মিরপুর বাসীর কাছে যেন মূর্তিমান এক আতংকের নাম হয়ে দাঁড়িয়েছে। তার অত্যাচারে অতিষ্ঠ সাধারণ মানুষ, ব্যবসায়ী, গণমাধ্যমকর্মী, এমনকি মানবাধিকার কর্মীরাও অতিষ্ঠ।

তার বিষয়ে কেউ মুখ খুললেই তাদের উপর নেমে আসে তার বাহিনী দ্বারা বর্বর নির্যাতন এবং মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি ও মেরে ফেলার হুমকি। তার বিরুদ্ধে থানায় কেউ অভিযোগ করতে গেলে সেই বেসরকারি টেলিভিশনের প্রতিনিধি বলে পুলিশকে পরিচয় দিয়ে অভিযোগ বা জিডি না নিতে বাধ্য করা হয় এবং অভিযোগকারীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন মিথ্যা মামলার অপপ্রচার ছড়িয়ে দেয়।

এলাকা সূত্রে জানা যায়, এই জহিরুল মিরপুরের বিভিন্ন এলাকায় অপরাধ কর্মকাণ্ড চালিয়ে নিতে তার বিশাল বাহিনী রয়েছে। বেশ কিছুদিন আগে এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ২ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করেন। ওই ব্যবসায়ী টাকা দিতে রাজি না হওয়ায়, ব্যবসায়ীকে মোবাইল ফোনে গুলি করে হত্যার হুমকিও দেন তিনি। সেই হুমকির কল রেকর্ড সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে রীতিমত ভাইরালও হয়। এছাড়াও, সুনামধন্য টেলিভিশন রিপোর্টারকে মোবাইল ফোনে অশ্লীল ভাষায় গালাগাল ও ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী দ্বারা মেরে ফেলার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে সেই জহিরুল। এ বিষয়ে সেই সাংবাদিক নিজ ও পরিবারের নিরাপত্তা চেয়ে পল্লবী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন বলে জানা গেছে। এমনকি, রাজধানীর পল্লবী থানায় তার বিরুদ্ধে একাধিক চাঁদাবাজি ও বিস্ফোরক মামলা রয়েছে বলে জানা যায়।

এ সকল বিষয়ে, এস এম জহিরুল ইসলাম এর সাথে মুঠোফোনে কল দেয়া হলেও ফোন রিসিভ করেননি তিনি। এ বিষয়ে মিরপুর বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) জসিম উদ্দিন মোল্লাহ’র সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে পল্লবী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এর সাথে কথা বলে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।

আরো দেখুন
Advertisment
বিজ্ঞাপন

সবচেয়ে জনপ্রিয়