বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ২৫, ২০২৪
spot_img

মেধাবী স্কুল ছাত্র বাপ্পি হত্যা মামলার প্রধান আসামীসহ গ্রেফতার-৫

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে চাঞ্চল্যকর মেধাবী স্কুল ছাত্র সাইদুল ইসলাম বাপ্পি (১৪) হত্যা মামলার আসামী লিটন মিয়াসহ (৩৫) পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব-১১ এর সদস্যরা। মঙ্গলবার বিকেলে র‌্যাবের সিনিয়র সহকারি পরিচালক (সিনিয়র এএসপি) রিজওয়ান সাঈদ জিকু এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানিয়েছেন।

এর আগে ওই দিন ভোরে উপজেলার ফতেহপুর ইউনিয়নের নৈকাহন এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। এসময় ছিনতাই যাওয়া অটো রিক্সার অংশবিশেষ উদ্ধার করে র‌্যাব।

আটককৃত চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলার প্রধান আসামী লিটন মিয়া গোপালদী পৌরসভার উলুকান্দী পূর্বপাড়া গ্রামের করম আলীর ছেলে। অপর আসামীরা হলো নরসিংদী মাধবদী নোয়াকান্দি গ্রামের কেরামত আলীর ছেলে মোঃ হাফিজ (৫৮), উপজেলা নৈকাহন এলাকার ফরিদুল ইসলামের ছেলে তৌফিকুর রহমান শিপু (২৪), একই এলাকার মইজ উদ্দিনের ছেলে হযরত আলী (১৮), ও কায়িমপুর এলাকার জংসর আলীর ছেলে বিল্লাল হোসেন।

র‌্যাবের সিনিয়র সহকারি পরিচালক রিজওয়ান সাঈদ জিকু জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত আসামীরা হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে।

আড়াইহাজার থানার ওসি ইমদাদুল ইসলাম তৈয়ব জানান, গোপালদী পৌরসভার উলুকান্দি গ্রামের দরিদ্র খোকন মিয়া অটোরিকশা চালিয়ে পাঁচ সদস্যের সংসারের খরচ মেটাতো। তাঁর কষ্ট দেখে প্রায়ই অটোরিকশা নিয়ে বের হতো ছেলে সদাসদি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির মেধাবী শিক্ষার্থী সাইদুল ইসলাম বাপ্পি (১৪)।

গত ১৩ সেপ্টেম্বর সকালে অটো নিয়ে গ্যারেজ হতে বের হলে গ্রেফতারকৃত প্রধান আসামী লিটন মিয়া তার  শ্বশুর বাড়ি যাবে বলে বাপ্পির অটোরিক্সা ভাড়া করে। পরে পূর্ব-পরিকল্পিতভাবে তার সহযোগিদের নিয়ে বাপ্পিকে হত্যা করে অটোরিক্সা এবং তার সাথে থাকা গলার চেইন ও ব্রেসলেট ছিনিয়ে নেয়। এদিকে বাপ্পি বাড়িতে ফিরে না আসায় তার মা পারভীন আক্তার বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ করে না পেয়ে লিটনকে জিজ্ঞেস করলে সে জানেনা বলে জানায়।

পরদিন ১৪ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় আড়াইহাজার উপজেলার নয়নাবাদ এলাকার আব্দুল হান্নান এর পরিত্যক্ত বাড়ির পেয়ারা গাছের নিচে ডোবার মধ্যে অটোরিক্সা চালক সাইদুল ইসলাম বাপ্পির লাশ পাওয়া যায়। এ পাশবিক ও নৃশংস হত্যাকান্ডের ঘটনাটি বিভিন্ন পত্র-পত্রিকা ও মিডিয়ায় প্রকাশিত হলে নারায়ণগঞ্জসহ সারাদেশে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। নিহত বাপ্পীর লাশ উদ্ধারের পর থেকে লিটন বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়। এরপর থেকে তার উপর আইনশৃক্সক্ষলা বাহিনীর সন্দেহ হয়। তাকে গ্রেপ্তারে পুলিশ, র‌্যাব বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালাতে থাকে।

এদিকে বাপ্পির পিতা খোকন মিয়া বলেন, আমার মত আর কারও যাতে সন্তান হারাতে না হয় হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ফাঁসি দাবী করেন তিনি।

আরো দেখুন
Advertisment
বিজ্ঞাপন

সবচেয়ে জনপ্রিয়