মঙ্গলবার, জুন ২৫, ২০২৪
spot_img

ফাস্টফুড দোকানিকে মারধরের অভিযোগে এএআই ক্লোজড

ফরিদপুর জেলা প্রতিনিধিঃ ফরিদপুরের চরভদ্রাসনে সিগারেটের প্যাকেট বদলে না দেয়ায় ফাস্টফুডের এক দোকানদারকে দোকান থেকে ধরে মারতে মারতে থানায় নিয়ে গারদে আটকে বেদম নির্যাতনের অভিযোগে শিমন খান নামে পুলিশের এক এএসআইকে ক্লোজড করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ফরিদপুরের পুলিশ সুপারের নির্দেশে তাকে পুলিশ লাইনে ক্লোজড করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন চরভদ্রাসন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সেলিম রেজা। তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও জানিয়েছে পুলিশের একটি সূত্র।

চরভদ্রাসন উপজেলা পরিষদের সামনে রব মোল্লা নামে ওই ব্যক্তির একটি ফাস্টফুডের দোকান পরিচালনা করেন। বর্তমানে তিনি ফরিদপুরের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

জানা গেছে, বুধবার দুপুর ১টার দিকে এএসআই শিমন ওই থানার এসআই ইব্রাহিম ও সাব্বির নামে আরেক ব্যক্তিকে সঙ্গে নিয়ে চরভদ্রাসন উপজেলা কার্যালয়ের সামনে অবস্থিত জনৈক রব মোল্লার (৩৫) ফাস্টফুড দোকানে যায়। এরপর রব মোল্লাকে দোকান থেকে মারতে মারতে বের করে।

এ ঘটনার পর সাংবাদিকদের হাতে আসা একটি সিসি ফুটেজে ধারণকৃত ভিডিওতে দেখা যায়, চরভদ্রাসন থানার এএসআই শিমন, এসআই ইব্রাহিম ও সাব্বির নামে তাদের এক সহযোগী চরভদ্রাসন উপজেলা পরিষদের সামনে অবস্থিত আব্দুর রব মোল্যার একটি ফাস্টফুড দোকানে যায়। এর কিছুক্ষণ পরে তারা দোকানদার রব মোল্যাকে মারতে মারতে বের করে নিয়ে আসে।

ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রব মোল্লা বলেন, থানায় নিয়ে গারদে আটকে তার উপর অমানবিকভাবে নির্যাতন চালানো হয়। তাকে রোলার ও লাঠি দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। একপর্যায়ে তার নিকট এএসআই শিমন পঞ্চাশ হাাজর টাকা চাঁদা দাবি করেন। রব মোল্যা বলেন, এ ঘটনার আগেরদিন মঙ্গলবার বিকেলে এএসআই শিমন তার দোকানে এসে কুড়ি শলাকার বড় এক প্যাকেট ব্যানসন সিগারেট বদলে দশ শলাকার করে দুটি ছোট প্যাকেট দিতে বলে। কিন্তু দোকানে ছোট প্যাকেট না থাকায় তারা সিগারেটের প্যাকেট বদলে দিতে পারবেন না জানান। এসময় তাদের পরে দেখে নেয়ার হুমকি দিয়ে চলে যায় এএসআই শিমন। এর পরেরদিন তারা দোকান থেকে এভাবে মারতে মারতে থানায় নিয়ে নির্যাতন চালায়। রব মোল্যা বলেন, আমি উপজেলার সামনে ক্ষুদ্র একটি দোকান করি। আমিতো অবৈধ দোকান করি না। কিন্তু তাদের আচরণে মনে হলো আমি কোনো অবৈধ ব্যবসা করি!

তিনি বলেন, তারা আমাকে থাপড়াতে চেয়েছে। থানায় নিয়ে থাপড়িয়েছে। বলেছে, চিনিস পুলিশ কী জিনিস। প্রতিদিনই তার দোকানে যেয়ে কোন না কোন লোকের সঙ্গে তারা দাপট দেখিয়ে ভেজাল লাগায়।

নির্যাতনের শিকার রব মোল্যার স্ত্রী সাবিনা বেগম বলেন, এ ঘটনার পর আমাদের দোকানের ছেলেটি আমাকে ফোন দিয়ে বলে, ভাবি আপনাকে থানায় ডাকে। থানায় যেয়ে দেখি তারে আলাদা একটা রুমে আটকায় রাখছে। সেখানে পৌঁছে দেখি, আমি থানায় যাওয়ার আগেই তারে অনেক মারধর করছে। উনি চেয়ারে বসা ছিল, উঠতেও পারে না এমনভাবে মারছে। সাধারণ একটা মানুষের সঙ্গে এমন করছে আমরা এর বিচার চাই। অসহায় মানুষের সঙ্গে এরকম করবে কেনো?

রব মোল্যার দোকানের কর্মচারী রাজু (১৯) বলেন, আমরা দোকানে সবার সঙ্গে ভালো ব্যবহার করি। আমি সবসময় দোকানে থাকি। কিন্তু তিনি (এএসআই শিমন) যখনই দোকানে আসেন আমার সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করেন। উনি এমন ব্যবহার করবেন কেন? আমরা এর বিচার চাই।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে চরভদ্রাসন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সেলিম রেজা বলেন, এ ধরনের একটি অভিযোগ জানতে পেরে পুলিশ সুপারের নির্দেশে এএসআই শিমনকে পুলিশ লাইনে ক্লোজ করা হয়েছে।

আরো দেখুন
Advertisment
বিজ্ঞাপন

সবচেয়ে জনপ্রিয়