সোমবার, জুলাই ১৫, ২০২৪
spot_img

ঝিনুকের আদলে রেল স্টেশন, সেপ্টেম্বর থেকে চলবে ট্রেন

কক্সবাজার প্রতিনিধিঃ দোহাজারী থেকে রামু হয়ে কক্সবাজার পর্যন্ত সিঙ্গেল লাইন ডুয়েল গেজ ট্র্যাক নির্মাণ প্রকল্পের কাজ ৮৬ শতাংশ শেষ হয়েছে। সব ঠিকঠাক থাকলে কক্সবাজার-ঢাকা রুটে সেপ্টেম্বরেই পরীক্ষামূলক ভাবে ট্রেন চলাচল শুরু হবে, যদিও বাণিজ্যিকভাবে চালু হতে ২০২৪ সালের জুন নাগাদ সময় লাগতে পারে।

দোহাজারী থেকে রামু হয়ে কক্সবাজার এবং রামু থেকে মিয়ানমারের অদূরে ঘুমধুম র্পযন্ত সিঙ্গেল লাইন ডুয়েল গেজ ট্র্যাক নির্মাণ প্রকল্পের কাজ ২০১০ সালে হাতে নেয় সরকার। দোহাজারী থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত প্রকল্পের কাজ শেষ হবে ২০২৪ সালের জুনে।

প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ব্যয় হচ্ছে ১৮ হাজার কোটি টাকার বেশি। দুই পর্যায়ে এই প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ে দোহাজারী থেকে রামু হয়ে কক্সবাজার পর্যন্ত ১০০ দশমিক ৮৩১ কিলোমিটার সিঙ্গেল লাইন ডুয়েল গেজ ট্র্যাক নির্মাণ করা হবে। আর এই অংশেরই ৮৬ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। এই অংশের কাজ শেষ হলে দ্বিতীয় পর্যায়ে রামু থেকে ঘুমধুম পর্যন্ত ২৮ দশমিক ৭৫২ কিলোমিটার সিঙ্গেল লাইন ডুয়েল গেজ ট্র্যাক নির্মাণ করার কথা রয়েছে।

দোহাজারী থেকে কক্সবাজারের দূরত্ব ১০০ কিলোমিটার। প্রকল্প নির্মাণে হাতি ও অন্যান্য বন্যপ্রাণী নির্বিঘ্নে চলাচল করার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। বর্তমানে দোহাজারী পর্যন্ত রেললাইন আছে। এ কারণে দোহাজারী থেকে রামু হয়ে বন-পাহাড় নদী পাড়ি দিয়ে রেলপথটি যাচ্ছে কক্সবাজারে।

নয়টি স্টেশন নির্মাণের কাজ প্রায় শেষ। এর মধ্যে আছে দোহাজারী, সাতকানিয়া, লোহাগড়া, হারবাং, চকরিয়া, ডুলাহাজরা, ইসলামাবাদ, রামু ও কক্সবাজার। এসব স্টেশনে থাকবে কম্পিউটার বেইজড ইন্টারলক সিগন্যাল সিস্টেম এবং ডিজিটাল টেলিকমিউনিকেশন সিস্টেম।

দোহাজারী থেকে চকরিয়া এবং চকরিয়া থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত রেলপথে ৩৯টি ব্রিজ ও আন্ডারপাস সহ ২৫১টি কালভার্ট নির্মাণ সম্পন্ন হয়েছে। ইতোমধ্যে ৮১ কিলোমিটার অংশে রেলওয়ে ট্র্যাক বসানো হয়েছে।

দোহাজারী-কক্সবাজার রেল লাইন প্রকল্পের অতিরিক্ত প্রকল্প পরিচালক আবুল কালাম চৌধুরী বলেন, প্রকল্পের ৮৬ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে, সামান্য কিছু কাজ বাকি আছে। আশা করছি, সেপ্টেম্বরের ১৫ থেকে ৩০ তারিখের মধ্যে চট্টগ্রাম তথা ঢাকা থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত একটি ট্রায়াল রান করা হবে। তবে বাণিজ্যিকভাবে ট্রেন চালু হতে কয়েক মাস সময় লাগবে।”

প্রাথমিকভাবে দুই জোড়া ট্রেন চললেও পরে ট্রেনের সংখ্যা বাড়ানো হবে জানিয়ে তিনি বলেন, “ঢাকা থেকে যেসব ট্রেন চট্টগ্রাম পর্যন্ত আসে, সেসব ট্রেনের শেষ গন্তব্য হবে কক্সবাজার। এই রুটে সম্পূর্ণ নতুন একটি ট্রেন চালু হবে। কুয়েত থেকে নতুন কোচ আনা হয়েছে। তবে এখনো ট্রেনের নাম নির্ধারণ করা হয়নি।

প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বাণিজ্যিকভাবে ট্রেন চালু হলে ঢাকা থেকে কক্সবাজার আসতে সাড়ে ৬ থেকে ৭ ঘণ্টা লাগবে। এসি সিটের ভাড়া ১২০০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে। আর নন এসি হতে পারে ৭০০ টাকা।

এদিকে, কক্সবাজারের ঝিনুক আকৃতির স্টেশনটির কাজও প্রায় শেষ পর্যায়ে। পাঁচ তলা বিশিষ্ট এই স্টেশনে থাকবে শপিং মল, ফুড কর্নার, লকার, কনভেনশন হলসহ ১৭টি বাণিজ্যিক কার্যক্রম। প্রথম দর্শনেই সামুদ্রিক একটা আবহ পাওয়া যাবে এই স্টেশনে।

স্থানীয়রা বলছেন, প্রকল্পটি সম্পূর্ণ চালু হলে কম সময়ে, কম খরচে আরামদায়কভাবে যাতায়াত করতে পারবেন তারা এতে এই অঞ্চলে যোগাযোগ ব্যবস্থায় নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।

অন্যদিকে পর্যটন ব্যবসায় সংশ্লিষ্টদের মত, এই প্রকল্প ঘিরে কক্সবাজারের পর্যটন শিল্পে বইছে সম্ভাবনার সুবাতাস। দেশের অর্থনীতির গতি বাড়বে বহুগুণ, হবে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা।

আরো দেখুন
Advertisment
বিজ্ঞাপন

সবচেয়ে জনপ্রিয়