সোমবার, এপ্রিল ২২, ২০২৪
spot_img

বিএনপি নেতা ফারুক ওমর এখন উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি প্রার্থী

সংবাদ১৬.কমঃ বিএনপি নেতা আপেল মাহমুদ এর একনিষ্ঠ সহচর, ছাত্রদল নেতা ওমর ফারুক এখন সোনারগাঁ স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি পদ বাগানোর জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছেন। এইতো কিছুদিন আগেও বিএনপির হয়ে প্রতিটি আন্দোলন-সংগ্রাম ও মিটিং-মিছিলে ছিল যার সরব উপস্থিতি। সেই সময় সোনারগাঁ থানা ছাত্রদলের সভাপতি প্রার্থীও হয়েছিলেন তিনি। দল পালটানো নেতার ডিগবাজিতে সবই এখন অতীত। ছাত্রদল ছেড়ে মুজিব কোর্ট পরে এখন আওয়ামীলীগ বনে গেছেন কাঁচপুর ইউনিয়নের এই নেতা। তিনি কাঁচপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোশাররফ ওমর ও উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান বাবুল ওমর বাবুর আপন ছোট ভাই।

ছাত্রদল নেতা ওমর ফারুক পদ্মা সেতু উদ্বোধনের নামে ব্যানারে নারায়ণগঞ্জ জেলা শ্রমিকলীগের পদ পাওয়ার জন্য অভিনন্দন জানায়। সেদিন থেকেই শুরু হয় তার দল বদলের নামধারী রাজনীতি। অনেক দৌড়ঝাপের পরেও নারায়ণগঞ্জ জেলা কমিটির নেতাকর্মীরা তার পেছনের ইতিহাস দেখে কোন পদে স্থান দেয়নি। ফলে আবারও সোনারগাঁ উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি প্রার্থী হয়ে ত্যাগী নেতাদের কোনঠাসা করার পায়তারা করছে বলে জানিয়েছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তারা বলেন, এমন ধরনের রাজনৈতিক নেতা কোন দলের জন্যই মঙ্গল বয়ে আনতে পারেনা।

তৃণমূল স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতাকর্মীদের দাবি বিএনপি জামাতের হাতিয়ার ছাত্রদল নেতা ও দল পরিবর্তনকারী ওমর ফারুক কিভাবে সোনারগাঁ থানা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি প্রার্থী হয়? কাচঁপুর এলাকাসীর অভিযোগ, ওমর ফারুক তার চেয়ারম্যান ভাইয়ের প্রভাব খাটিয়ে কাঁচপুরের কলাপট্টি থেকে শুরু করে সোনারগাঁ ফিলিং স্টেশন পর্যন্ত সরকারী জায়গায় দোকান বসিয়ে চাঁদাবাজি করছে, সে একজন চাঁদাবাজ।

সোনারগাঁয়ের তৃণমূল আওয়ামীলীগ নেতাকর্মীদের দাবি ওমর ফারুকের মতো হাইব্রিড সুবিধাবাদী নামধারী নেতারা যাতে কোন ভাবেই আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে আসতে না পারে। স্বেচ্ছাসেবক লীগ একটি সুশৃঙ্খল সংগঠণ। এই সংগঠনে সোনারগাঁয়ে কোন ভাবেই ছাত্রদল নেতা ওমর ফারুককে মেনে নেয়া হবে না।

সোনারগাঁ বিএনপির রাজনীতিতে ভাটা পড়লে ফারুকও নিজের খোলস বদলায়। অবস্থা বেগতিক দেখে সরে আসেন সেখান থেকে। ভীড়ে যান সরকারি দলের মিছিলে। ধীরে ধীরে নিজেকে আওয়ামী লীগ নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার মিশনে নামেন কাঁচপুরের ওই ওমর ফারুক।

নিজের মঞ্জিলে মকসুদ পুরা করতে দিন রাত জেলা ও কেন্দ্রীয় নেতাদের সাথে তদবির চালিয়ে যাচ্ছেন ওমর ফারুক। এদিকে ওমর ফারুক সাবেক ছাত্রদল নেতা থেকে এখন আসন্ন উপজেলা আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের নতুন কমিটিতে সভাপতি প্রার্থী হওয়াতে স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতাকর্মীদের মাঝে অনেকটাই ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে।

গত ১৭ জুলাই সোনারগাঁ উপজেলার শেখ রাসেল স্টেডিয়ামে উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সম্মেলনে ওমর ফারুকের মিছিলটি ঢুকার সাথে সাথেই গুঞ্জন শুরু হয়। অনেক নেতারাই বলে উঠেছেন, একজন বিএনপির দালাল, চাঁদাবাজও নাকি সোনারগাঁ স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি প্রার্থী! এমন নেতাদের দায়িত্ব দিলে সোনারগাঁ আওয়ামীলীগের কলঙ্ক হয়ে যাবে।

স্বেচ্ছাসেবক লীগের একাধিক নেতা জানান, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের পরে স্বেচ্ছাসেবকলীগ হচ্ছে একটি অন্যতম সহযোগী সংগঠন। ওমর ফারুক অন্যদল করে এখন স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতৃত্ব দিবে এটা তারা কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না। তারা চান আগামী নতুন কমিটিতে ত্যাগী ও দলের দুর্দিনে যারা রাজপথে থেকে আন্দোলন সংগ্রাম করেছেন তারাই যেন উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতৃত্ব দেন।

এখানেই শেষ নয়, দল পালটানো নেতা কাঁচপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোশাররফ ওমর ও উপজেলা ভাইস-চেয়ারম্যান বাবুল ওমরের আপন ভাই ফারুক ওমরের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা রয়েছে বলেও ইতোমধ্যে বিভিন্ন পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। তার বড় ভাই বাবুল ওমরের এক সহচর ইতোমধ্যে মাদকসহ গ্রেফতার হয়েছেন, যা বিভিন্ন অনলাইনে সংবাদ প্রকাশিত। ওই মাদক ব্যবসায়ীকে রীতিমতো শেল্টার দিয়ে আসছেন এই ওমর ফারুক।

স্বেচ্ছাসেবক লীগের নতুন কমিটিতে সভাপতি প্রার্থী ওমর ফারুক এই অভিযোগের বিষয়ে বলেন, এগুলো সম্পূর্ন মিথ্যা। আমি কখনোই বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলাম না। আপেল সাহেবের সাথে ব্যক্তিগত সম্পর্ক ছিল। সেই সুবাদে দু-একবার কথা হয়েছে। কিন্তু তার রাজনীতি করিনাই।

আরো দেখুন
Advertisment
বিজ্ঞাপন

সবচেয়ে জনপ্রিয়