সোমবার, এপ্রিল ২২, ২০২৪
spot_img

ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে মামলা করে বাদি বিপাকে

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ নরসিংদীর মাধবদী থানার নুরালাপুর এলাকায় বাউন্ডারী দেওয়াল নির্মাণ ও কারখানায় অগ্নিকান্ডের ঘটনায় পৃথক মামলা করায় আসামিদের হুমকি-ধামকিতে বাদি ও বাদির পরিবার এখন এলাকা ছাড়া। অন্যদিকে আসামিরা এলাকায় প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালেও রহস্যজনক কারণে পুলিশ আসামিদের গ্রেপ্তার করছে না বলে মামলার বাদি আইনুল হক দাবি করেন। মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছে নুরালাপুর ইউপি চেয়ারম্যান মো. আরিফ হোসেনকে।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, মাধবদী থানার নুরালাপুর গ্রামে হাজী মো. আইনুল হক গত ১৩ জুন বাড়ির পুরনো বাউন্ডারী দেওয়াল সংস্কার করতে গেলে খোর্দ্দনওপাড়া এলাকার শরীফ হোসেনের ছেলে ও ইউপি চেয়ারম্যান আরিফ হোসেন, আব্দুল কাইয়ুমের ছেলে আশিক, দুলাল মিয়ার ছেলে রহম আলী, নুরাপুর গ্রামের আয়নল হক ওরফে আয়নার ছেলে মজিবুর রহমান, ছাইদ মিয়ার ছেলে সামাদসহ অজ্ঞাত আরো ৫-৬ জন বাধা প্রদান করে। এ সময় তারা প্রকাশ্যে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। দাবিকৃত চাঁদার টাকা দিতে অস্বীকার করায় নির্মাণ শ্রমিকদের টেনে হেঁচড়ে তুলে নিয়ে যায়। পরে নির্মাণ শ্রমিক রমজান মিয়া, উজ্জলসহ অন্যদের মারধর করা হয়। এক পর্যায়ে এলাকাবাসীর মধ্যস্ততায় শ্রমিকদের ছেড়ে দেয়া হয়। এঘটনায় আদালতে মামলা দায়ের করলে আসামিরা আরো ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। গত ১৯ জুন ভোর রাতে ওই আসামিরা বাদি আইনুল হকের কাপড় উৎপাদনকারী কারখানা ও গোডাউনে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে প্রায় কোটি টাকার ক্ষতি সাধন হয়। পরে সিসি টিভির ভিডিও ফুটেজ দেখে ঘটনার সত্যতা ও আসামি নিশ্চিত হয়ে মাধবদী থানায় আরো একটি মামলা দায়ের করা হয়।

নুরালাপুর গ্রামের বাসিন্দা ও ব্যবসায়ী আইনুল হক জানান, গত ১৬ মার্চ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ওই নির্বাচনে চেয়ারম্যান আরিফ হোসেনের পক্ষে কাজ না করায় একের পর এক ক্ষতি সাধন করে যাচ্ছে। বাউন্ডারী দেওয়াল নির্মাণ করতে গেলে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। এতে রাজি না হওয়ায় আমার কাপড় উৎপাদনকারী কারখানা ও গোডাউনে অগ্নিসংযোগ করে। এসব ঘটনায় পৃথক দুটি মামলা করলে আসামিদের হুমকির ভয়ে এখন পরিবার নিয়ে পলাতক জীবন যাপন করছি।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত নুরালাপুর ইউপি চেয়ারম্যান আরিফ হোসেন জানান, চাঁদাবাজি ও কারখানায় আগুন দেয়ার ঘটনায় আমি জড়িত নই। আমাকে হেয় করার জন্য বাদিপক্ষ মামলায় জড়িয়েছে। তাছাড়া মামলার ঘটনায় কাউকে হুমকিও দেয়া হয়নি।

মাধবদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রকিবুজ্জামান জানান, কারখানা ও গোডাউন আগুন দিয়ে পুড়ানোর ঘটনায় মামলা হয়েছে। আসামি গ্রেপ্তারে পুলিশ তৎপর রয়েছে।

আরো দেখুন
Advertisment
বিজ্ঞাপন

সবচেয়ে জনপ্রিয়