রবিবার, মে ১৯, ২০২৪
spot_img

আড়াইহাজার পৌরসভায় সুষ্ঠু নির্বাচনে বাঁধা এমপি নজরুল ইসলাম বাবু

সংবাদ ডেস্কঃ নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার পৌরসভা নির্বাচনের আর মাত্র একদিন বাকি। আজ রাত বারোটার পরই শেষ হচ্ছে প্রচারণা। নির্বাচনী প্রার্থীরা প্রতীক বরাদ্দের পর থেকে যার যার মতোই প্রচার প্রচারণা চালিয়েছেন। তবে মেয়র পদে আওয়ামীলীগ পরিবারের তিনজন প্রার্থী হওয়ায় নির্বাচনে এবার ভিন্নতা আসবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। স্থানীয়রা বলছেন, নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব নজরুল ইসলাম বাবু শক্তিশালী হওয়ায় সুষ্ঠু নির্বাচনে বাধা হয়ে দাড়িয়েছেন তিনি।

আড়াইহাজার পৌরসভা নির্বাচনটি অবাধ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু করতে নির্বাচন কমিশনের কাছে সর্বাত্নক সহযোগীতা চেয়েছে পৌরবাসী। তারা বলছেন দীর্ঘদিন ধরেই এই উপজেলায় স্বচ্ছ নির্বাচন হচ্ছে না। গত কয়েক বার পৌরসভায় সিলেকশনে নৌকা মার্কাকে পাশ করিয়ে দিয়েছেন সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম বাবু। এবারও আওয়ামীলীগের মনোনীত নৌকা মার্কার প্রার্থী বর্তমান মেয়র সুন্দর আলীকে বিজয়ী করতে মাঠে রয়েছেন তিনি।

স্বতন্ত্র পদে মেয়র প্রার্থী যারা নির্বাচনে মাঠে রয়েছেন তারা এই প্রভাবশালী সংসদ সদস্যের ইশারায় নির্বাচন করছেন বলে তারা প্রতিবেদককে জানিয়েছেন। স্বতন্ত্র প্রার্থীরা বলছেন, তারা প্রত্যেকে সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম বাবুর দোয়া ও আশির্বাদ নিয়েই নির্বাচনে লড়ছেন এবং নির্বাচিত হতে পারলে নজরুল ইসলাম বাবুর পরামর্শেই পৌরসভার উন্নয়ণ করবেন। তবে আড়াইহাজার পৌরসভা নির্বাচনের প্রতিক বরাদ্দের পর থেকে প্রচার প্রচারণার সময় কয়েক দফা আওয়ামীলীগের মনোনীত প্রার্থী সুন্দর আলীর নির্বাচনের প্রচারণায় অংশ গ্রহন করে আলোচনায় আসেন এমপি বাবু। মাইক হাতে সংসদ সদস্য এলাকাবাসীকে নৌকায় ভোট দিতে বলেন। অথচ স্বতন্ত্র তিন প্রার্থীকে নির্বাচনে মাঠে নামিয়েছেন তিনি নিজেই, এমনটাই বলছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেক মেয়র হাবিবুর রহমান, সাবেক উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মামুন অর রশিদ ও আড়াইহাজার পৌরসভা আওয়ামীলীগের সভাপতি মেহের আলী।

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের পৌরসভা নির্বাচনের আচরণ বিধি ২০১৫ আইন স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) আইন ২০০৯ (২০০৯ সনের) ১২ এর ধারায় উল্লেখ করা হয়েছে, সরকারি সুবিধাভোগী অতিগুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি প্রধানমন্ত্রী, জাতীয় সংসদের স্পিকার, সরকারের মন্ত্রী, ডেপুটি স্পিকার, বিরুধী দলীয় নেতা, সংসদ উপনেতা, বিরুধী দলীয় উপনেতা, প্রতিমন্ত্রী, হুইপ, উপমন্ত্রী বা তাদের পদমর্যাদা কোন ব্যাক্তি, সংসদ সদস্য এবং সিটি কর্পোরেশনের মেয়র কোন প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনে প্রচার প্রচারণা চালাতে পারবেন না। কিন্তু নির্বাচন কমিশনের এসকল নীতিমালাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ৫ জুন মেয়র প্রার্থী সুন্দর আলীর পক্ষে একটি মিছিল বের হলে সেখানে একটি ব্যাটারি চালিত অটো রিকশায় বসা থাকতে দেখা গেছে এমপি বাবুকে। এসময় অটো রিকশার ছাদে একটি মাইকও ছিলো। বাবুকে মাইক হাতে স্লোগান দিতে শোনা গেছে। ওই অটো রিকশায় বসেই সুন্দর আলীকে নৌকা মার্কায় ভোট দিতে পৌরবাসীর কাছে ভোট প্রার্থনা করেন তিনি। প্রতীক বরাদ্দের আগে এমপি নজরুল ইসলাম বাবু ও দলীয় প্রার্থী সুন্দর আলী ঝাউগড়া ইদগাহ মাঠে উঠান বৈঠকের আয়োজন করে স্পষ্ট আচরণ বিধি ভঙ্গ করেন প্রার্থী ও এমপি উভয়েই।

এলাকাবাসীরা জানায়, আমরা যাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করব সেই হবে পৌরসভার মেয়র। কিন্তু স্থানীয় সংসদ সদস্যের নেতৃত্বে আওয়ামীলীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগসহ অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা সাধারণ ভোটারদের হুমকি ধামকি দিয়ে নির্বাচনের পরিবেশ নষ্ট করছে। এতে সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেন তারা। তারা জানান, ইতিমধ্যেই বিভিন্ন এলাকায় স্বতন্ত্র প্রার্থীদের নেতাকর্মীদের তালিকা করে তাদের বিরুদ্ধে ভয়ভীতিসহ নানা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছেন খোদ সংসদ সদস্য নিজেই।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যবসায়ী জানান, প্রতিদিন বাসায় বসে নেতাকর্মীদের ডেকে এনে ভয়ভীতি দেখিয়ে সংসদ সদস্য নিজেই নৌকার প্রার্থী সুন্দর আলীর পক্ষে কাজ করার জন্য চাপ প্রয়োগ করেন। নৌকার পক্ষে নির্বাচন না করলে পরবর্তীতে তাদের দেখে নেওয়ারও হুমকি প্রদান করেন। এতে নেতাকর্মীরা আতংকিত। নির্বাচনে ভোট দিতে পারবে কিনা এ নিয়ে সংশয়  প্রকাশ করছেন তারা।

স্বতন্ত্র প্রার্থীর এক সমর্থক জানান, নির্বাচনে জোড় পূর্বক কেন্দ্র দখল করার জন্য পৌরসভার আশপাশের চেয়ারম্যান, সংগঠনের নেতাকর্মী ও ভাড়াটে সন্ত্রাসীদের একত্রিত করছেন। ভোটার, এজেন্ট ও প্রার্থীর লোকদের কেন্দ্রে না যাওয়ার জন্য ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন তারা। এতে আমরা আতংকিত হয়ে পড়েছি। এ বিষয়ে প্রশাসনের উর্ধ্বতন মহলের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।

এ বিষয়ে আড়াইহাজার পৌরসভা নির্বাচনের রিটানিং কর্মকর্তা রবিউল আলম জানান, স্থানীয় সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম বাবুকে মৌখিকভাবে ইতিমধ্যে সতর্ক করা হয়েছে। এর পরেও যদি তিনি আচরণ বিধি লঙ্ঘন করেন তাহলে তাকে চিঠি দিয়ে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

এ ব্যপারে নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম বাবুর মুঠো-ফোনে কয়েকবার কল করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

আরো দেখুন
Advertisment
বিজ্ঞাপন

সবচেয়ে জনপ্রিয়