রবিবার, মে ১৯, ২০২৪
spot_img

তিতাসে বিদ্যুৎ সংকট -বিভ্রাটে জনজীবন অতিষ্ঠ

সাকিব হোসেইনঃ তীব্র দাবদাহের সঙ্গে কুমিল্লার তিতাস উপজেলায় যুক্ত হয়েছে সীমাহীন লোডশেডিং। এতে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে জনজীবন। দিনরাত মিলিয়ে ২৪ ঘন্টায় ১০-১২ বার বিদ্যুৎ-বিভ্রটের ঘটায় অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষ। বেশি সমস্যায় বৃদ্ধ, শিশুরা এবং পোলট্রি খামারিরা।

গ্রাহকরা বলছে, জনগণের পকেটের টাকা লুটে নিচ্ছে বিদ্যুৎ অফিস। আগে যখন ২৩ ঘন্টা বিদ্যুৎ পাইতাম তখন যা বিল আসতো, এখন ৮ থেকে ১০ ঘন্টা বিদ্যুৎ পেয়ে ও তার চাইতে বিদ্যুৎ বিল বেশী আসে কারন টা কি? অতিরিক্ত লোডশেডিং, ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ বন্ধ রাখছে পল্লী বিদ্যুৎ অফিস। পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের যোগাযোগের জরুরি বিভাগের নাম্বার টিতে পর্যন্ত কল দিলে তাদের পাওয়া যায় না। তিতাস উপজেলা থেকে প্রতিদিন ২৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হওয়ার কথা থাকলেও রহস্য জনক কারণে প্রতিদিন উৎপাদিত হয় ৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ মাত্র। এ উপজেলায় ৮ মেগাওয়াট বিদ্যুৎতের চাহিদার বিপরীতে কতিপয় বিদ্যুৎ অফিসারদের যোগসাজশে দেয়া হচ্ছে মাত্র ৩ মেগাওয়াট।

জনগুরুত্বপূর্ণ এমন বিষয়ের সমস্যা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে ক্ষোভ ঝাড়তে দেখা গেছে উপজেলার স্থানীয় সাধারন জনগণকে। ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করে বলেন, ব্যবসা-বাণিজ্যের অনেক কিছু নির্ভর করে বিদ্যুতের ওপর। কিন্তু অতি মাত্রায় লোডশেডিংয়ের কারণে এখন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সচল রাখাই কষ্টকর হয়ে দাঁড়িয়েছে। এদিকে বিদ্যুৎ বিভ্রাটে বিপাকে পড়ছেন মুসল্লিরা। নামাজের সময় বিদ্যুৎ না থাকায় নামাজ আদায়ে কষ্ট হচ্ছে মুসল্লিদের।

তিতাস উপজেলার বাসিন্দা সাকিব বলেন, আমার ১৮ মাসের শিশু বাচ্চা আছে। প্রচণ্ড গরমে বাচ্চা অসুস্থ হয়ে পড়েছে। এর মধ্যে আবার ঘন ঘন বিদ্যুৎ যাওয়ায় আরও বেশি অসুস্থ হয়ে পড়ছে। বিদ্যুৎ যাওয়ায় সঙ্গে সঙ্গেই কান্না শুরু করে, যতক্ষণ না আসে কান্না থামানো যায় না। জৈষ্ঠ-আষাঢ় মাসটা যদি ঠিকমতো বিদ্যুৎ দিত, তাহলে বেঁচে যেতাম।

উপজেলার পোলট্রি খামারি সুজন জানান, দিনের বেশিরভাগ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় তাঁর খামারের মুরগির বাচ্চা গুলো মারা যাচ্ছে।

তিতাসে বিদ্যুৎ বিতরনে অনিয়ম হচ্ছে এ ব্যাপারে প্রশ্ন করা হলে কুমিল্লা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির তিতাস সাব-জোনাল অফিসের জিএম বলেন, পাবলিক কি থেকে কথা বলে জানিনা, এটা জাতীয় বিপর্যয় বলেই ফোন রেখে দেন। পরে তাকে বার বার ফোন করে পাওয়া যায়নি। সে তার নামটিও বলেনি।

সম্প্রতি দৈনিক “ঢাকা টাইমস” পত্রিকায় প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানা যায়, ডলার সংকটের কারণে পর্যাপ্ত কয়লা আমদানি করা যাচ্ছে না। আর কয়লার অভাবে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন। দেশের সর্ববৃহৎ বিদ্যুৎকেন্দ্র পায়রা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রেও কয়লা সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। পর্যাপ্ত কয়লার মজুত না থাকায় আগামী সপ্তাহে পায়রার ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ হতে যাচ্ছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

গত ২৫ মে একই কারণে বন্ধ হয়ে যায় ৬৬০ মেগাওয়াটের একটি ইউনিট। ফলে দেশব্যাপী চলমান লোডশেডিং আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

আরো দেখুন
Advertisment
বিজ্ঞাপন

সবচেয়ে জনপ্রিয়