শুক্রবার, মে ২৪, ২০২৪
spot_img

ন্যায্য মুল্য না পেয়ে হতাশ ঠাকুরগাঁয়ের সবজি চাষিরা

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধিঃ গত কয়েক বছর ধরে লাভের মুখ দেখায় সবজি চাষে ঝুঁকেছেন ঠাকুরগাঁও জেলায় কৃষকরা। এর মধ্যে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার গড়েয়া ইউনিয়নের গ্রাম গুলোতে সবজি চাষে আনেকটাই বিপ্লব ঘটিয়েছেন কৃষকরা। এখানকার উৎপাদিত সবজি বিক্রি হচ্ছে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায়। তবে উৎপাদিত সবজি ন্যায্য মুল্য না পেয়ে হতাশ সবজি চাষিরা।

সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সদর উপজেলার গড়েয়া ইউনিয়নের, চকহলদী, মিলনপুর,খামার ভোগলা, মাঝগা, ডাংগীসহ বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, করলা, চালকুমড়া, ধন্দুল,কাকলোল, মিষ্টিকুমড়াসহ নানা ধরনের সবজি চাষ করছেন চাষিরা। উৎপাদিত এসব সবজি বিক্রি করছেন ঐ ইউনিয়নের বাগেরহাট এবং লিলার হাট আড়তে। এতে উৎপাদিত সবজি বিক্রি করছেন  চাষিরা। তবে দাম নিয়ে তাদের মধ্যে রয়েছে চাপা অসন্তোষ। অন্য দিকে আড়তে ৫০ থেকে ১০০ জন মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। তবে সার ও ডিজেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় একদিকে যেমন দুশ্চিন্তা অন্য দিকে কাংখিত ফলন না পেয়ে হতাশ তারা।

কৃষক রবি বলেন, আড়তে সবজি বিক্রি করতে আসছি। তবে সবজি দাম খুব কম। বৈরী আবহাওয়ার কারণে ফলনও কম হয়েছে। ৮০০ টাকার সার ১ হাজার ৬০০ টাকায় কিনতে হচ্ছে। এতে সবজিতে লাভ তো দূরের কথা, আসল টাকাই উঠছে না।

এদিকে সবজিতে বিভিন্ন প্রকারের রোগের প্রাদুর্ভারের পাশাপাশি সবজি দাম কম হওয়ায় বিপাকে পড়েছেন অনেক কৃষক। এ কৃষকের দাবি তিনি আড়াই বিঘা জমিতে সবজি চাষে  ১ লাখ  টাকা খরচ  হলেও  আসল টাকাই  উঠবে না তার।

বাগেরহাট বাজারের আড়তদার রফিকুল বলেন, এ বাজারে আশেপাশের গ্রামের কৃষক তাদের উৎপাদিত সবজি বিক্রি করতে আসেন। কৃষকের এ সবজি আমরা কিনে নিয়ে দক্ষিণাঞ্চলসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাঠাই। প্রতিদিন এখনো ৫ থেকে ৬ লাখ টাকার সবজি কেনাবেচা হয়। এতে লাভের মুখ দেখছেন কৃষকরা। এছাড়া আড়তে শতাধিক শ্রমিক কাজ করে তাদের সংসার চালাচ্ছেন।

ঠাকুরগাঁও জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের  উপ-পরিচালক সিরাজুল ইসলাম বলেন ঠাকুরগাঁও জেলার জমি অনেক উচু এবং নিবিড় পরিচর্যার মাধ্যমে ব্যাপক সবজি উৎপাদন করছেন। এর ফলে ঠাকুরগাঁও জেলায় এ বছর সবজির বিপ্লব ঘটেছে। তবে মাঝে মধ্যেই দাম নিয়ে কৃষকদের মধ্যে অসন্তোষের কথা শোনা যায়।

আরো দেখুন
Advertisment
বিজ্ঞাপন

সবচেয়ে জনপ্রিয়