শুক্রবার, মে ২৪, ২০২৪
spot_img

সিদ্ধিরগঞ্জে রেলওয়ের জমিতে কাউন্সিলরের অবৈধ মার্কেট

আসাদুজ্জামান নূরঃ নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে এসও রোড এলাকায় রেলওয়ে অধিদপ্তরের কোটি টাকা মূল্যের জমি দখল করে অবৈধভাবে মার্কেট করার অভিযোগ উঠেছে ওই এলাকার স্থানীয় কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে। এ বিষয়ে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ কোন ব্যবস্থা নিচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী।

স্থানীয়রা জানান, এসও রোড এলাকায় রেলওয়ের কয়েক কোটি টাকা মূল্যের ২৬ শতাংশ জমি জোড় পূর্বক বালু ভরাট করে এক পাশে দোকান নির্মাণ ও অপরপাশে সিটি কর্পোরেশনের ময়লা ফেলছেন সিদ্ধিরগঞ্জ থানা যুবলীগের সভাপতি ও নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ৬ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মতিউর রমহান মতি।

এসও রোড এলাকার এক বাসিন্দা জানান, রেলওয়ের  জায়গাটিতে প্রতি বছর পশুর হাট বসিয়ে সরকার লাখ লাখ টাকা রাজস্ব আদায় করতেন। এই জায়গাটি মোতালিব মিয়া নামে এক ব্যক্তি রেলওয়ে থেকে ইজারা নিয়ে ভোগ দখল করে আসছে। সম্প্রতি হঠাৎ রাতারাতি কাউন্সিলর সাহেব তবারক মিয়ার কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা নিয়ে দোকানটি তার কাছে ভাড়া দিয়েছেন। ক্ষমতা থাকলে যা হয়।

গোদনাইল মন্ডলপাড়া এলাকার বাসিন্দা মোতালেব মিয়া জানান, আমি রেলওয়ে থেকে লিজ নিয়ে এই জায়গাটি দীর্ঘদিন ধরে ভোগ দখল করে আসছি। সম্প্রতি যুবলীগ সভাপতি ও কাউন্সিলর মতিউর রহমান মতি আমার লিজকৃত জায়গাটি অবৈধভাবে দখল করে মার্কেট নির্মাণ করেন। আমার লিজকৃত জমির দখলের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি আমাকে বিভিন্নভাবে হুমকি ও ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। জমি দখলের বিষয়ে কোথায়ও অভিযোগ করেছেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, এই কাউন্সিলর মতি অনেক ক্ষমতাধর প্রভাবশালী তাই আমাকে আলোচিত সাত খুনের মত হত্যা করে আমার লাশ পানিতে ভাসিয়ে দিবে। তাই জীবনের নিরাপত্তায় ও ভয়ে কিছুই করতে পারছিনা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা যুবলীগের সভাপতি ও নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ৬ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মতিউর রহমান মতি জানান, আমি রেলওয়ের জায়গা দখল করে দোকান নির্মাণের সাথে জড়িত নই। কেউ আমার নাম ভাঙ্গিয়ে এই কাজটি করতে পারে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ রেলওয়ের ঢাকা বিভাগের এসেট কর্মকর্তা আতিকুল ইসলাম জানান, রেলওয়ের জায়গা দখল করে স্থানীয় কাউন্সিলর দোকানপাট নির্মাণের বিষয়টি আমার জানা নাই। তবে অবৈধ দখলদার যেই হোক না কেন তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা প্রশাসক মঞ্জুরুল হাফিজ জানান, সরকারি জমিতে কেউ অবৈধভাবে কোনো স্থাপনা নির্মাণ করতে পারে না। বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসনকে খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

আরো দেখুন
Advertisment
বিজ্ঞাপন

সবচেয়ে জনপ্রিয়