রবিবার, মে ১৯, ২০২৪
spot_img

রূপগঞ্জে পুলিশের সোর্স বেপরোয়া ফেন্সি জুম্মন এখন কোটিপতি

রূপগঞ্জ প্রতিনিধিঃ নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার তারাব পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ডের দিঘীবরাবো এলাকার হারুন মিয়ার ছেলে জুম্মন বর্তমানে এলাকায় মাদক সম্রাট ফেন্সি জুম্মন হিসেবে পরিচিত। গত কয়েক বছরের ব্যবধানে মাদক ব্যবসা করে প্রায় কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন। অথচ কয়েক বছর আগেও যার নুন আনতে পানতা ফুরাতো। গত এক সপ্তাহের অনুসন্ধানে এলাকাবাসীর অভিযোগের ভিত্তিতে এসকল তথ্য বেরিয়ে আসে।

এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অভাবের সংসারে বেড়ে উঠে জুম্মন। সে কারণে লেখাপড়াও খুব বেশিদূর করতে পারেনি। ছোট বেলা থেকেই সে এলাকা মারামারির সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে। গত ৬-৭ বছর আগেও নুন আনতে পনতা ফুরাতো জুম্মনের। তখন সে সংসার চালানোর জন্য এলাকায় একটি সুতার কারখানায় শ্রমিক হিসেবে কাজ করতো। স্থানীয় এক প্রভাবশালী নেতার মাধ্যমে যোগদেন যুবলীগে। যুবলীগকর্মী হওয়ার সুবাদে তার সঙ্গে সখ্যতা গড়ে উঠে রূপগঞ্জ থানার কয়েকজন পুলিশের সঙ্গে। এরপর থেকে সে পুলিশের সোর্স হিসেবে কাজ করা শুরু করে। সেই সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন মাদক ব্যবসায়।

মাদক ব্যবসায় প্রবেশের এক বছর যেতে না যেতেই জুম্মন তারাব পৌরসভার মাদকের অন্যতম বড় ডিলার বনে যান। জুম্মন তারাব পৌরসভার প্রায় সব এলাকাতে ফেন্সিডিল, ইয়াবা, গাঁজাসহ বিভিন্ন মাদক নিয়োগকৃত এজেন্টের মাধ্যকে বিক্রি করে থাকে। পৌর এলাকায় রূপসী, মৈকুলী, তারাব, বিশ্বরোড, যাত্রামুড়া ও বরপা এলাকায় তাদের নিয়োগকৃত ১৫-২০ টি এজেন্ট রয়েছে। তারা বিভিন্ন প্রকার নাম্বার প্লেটহীন অবৈধ মোটরসাইকেলে করে মাদক ক্রেতাদের কাছে পৌছেঁ দেয়।

এদিকে, ২০১৮ সালের প্রথম দিকে ২’শ ফেনসিডিল পার্শ্ববর্তী সোনারগাঁ থানার বারগাঁও এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তারপর যামিনে বেরিয়ে আসলে কয়েক মাস পর কাঁচপুর এলাকার আরিফের বাড়ি থেকে আবারো ৫০০পিছ ফেনসিডিলসহ গ্রেফতার করে পুলিশ । এছাড়া র‍্যাব ও গোয়েন্দা পুলিশ তাকে বেশকয়েকবার গ্রেপ্তার করে। জুম্মনের বিরুদ্ধে র‍্যাব ও ডিবি পুলিশে দেওয়া ৪/৫ টি মামলা রূপগঞ্জ থানায় রয়েছে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, জুম্মনের সঙ্গে রূপগঞ্জ থানা পুলিশের সক্ষ্যতা থাকার কারণে রূপগঞ্জ থানা পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করেনি। মাদক ব্যবসার বদৌলতে জুম্মন বর্তমানে প্রায় অর্ধকোটি টাকার মালিক। একসময়ে ভাঙ্গা ঝুপড়িঘর ভেঙ্গে গড়ে তুলেছেন অট্টালিকা। দিঘীবরাবো এলাকায় রয়েছে বেশকয়েকটি দোকান। এ ব্যবসায় তার অন্যতম সহযোগী সেহাগ নামে এক যুবক। সে চা-পান ব্যবসার আড়ালে মাদক ব্যবসা হিসাবের ম্যানেজারের দায়িত্ব পালন করেন। সোহাগই তার সকল মাদক ব্যবসার হিসেব রাখেন।

এলাকাবাসী অভিযোগ করে আরো জানায়, জুম্মন বিভিন্ন সময় পুলিশের গাড়ির সামনের বনারের উপর বসে ও পুলিশের সাথে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছবি প্রকাশ করে সাধারণ মানুষের মাঝে আতঙ্ক সৃষ্টি করেন। এছাড়া সাধারণ মানুষকে পুলিশ দিয়ে হয়রানী করেন বলেও বেশকয়েকজন ভোক্তভোগী অভিযোগ করেন।
সম্প্রতি ১২ মার্চ মাদক ব্যবসায় বাধা দিলে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থার আসক ফাউন্ডেশনের রূপগঞ্জ থানার সাধারণ সম্পাদক ইয়ামিন ভূঁইয়ার কর্মরত কর্মচারী শাহজাহানকে মারধর করে।

মাদক ব্যবসার সুবাধে তার বাড়িতে রয়েছে বিভিন্ন প্রকার ধারালো দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র। তার বিরুদ্ধে কেউ কোন প্রকার কথা বললে সে তার বাহিনীসহ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে বেড়িয়ে পড়ে। এতে করে এলাকাবাসীর মাঝে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।

এলাকায় ফেন্সী জুম্মন এক ত্রাসের নাম।
এ ব্যাপারে ’গ’ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার আবির হাসান বলেন, জুম্মনের নাম আমি আগে শুনিনি। তবে এখন যেহেতু আপনার মাধ্যমে শুনলাম। তার ব্যাপারে খোঁজ খবর নিয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

অনেক সময় পুলিশ বিভিন্ন অপারেশনে গেলে গাড়ি রাস্তায় রেখে যায়। তখন হয়তো কেউ ছবি তুলেছে হতে পারে। আমরা আসামী ধরতে অনেক সময় সোর্স ব্যবহার করে থাকি। তবে কেউ যদি পুলিশের সোর্স পরিচয়ে অপকর্ম করে তাহলে তার বিরুদ্ধে কঠোরভাবে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরো দেখুন
Advertisment
বিজ্ঞাপন

সবচেয়ে জনপ্রিয়