মঙ্গলবার, জুন ২৫, ২০২৪
spot_img

গণতন্ত্র মঞ্চের ৭ দফা নিয়ে সমমনা দলগুলোর মতানৈক্য

সংবাদ১৬.কমঃ ৭ দফা দাবির ভিত্তিতে যুগপৎ আন্দোলনের জন্য গণতন্ত্র মঞ্চ বিএনপির কাছে যে প্রস্তাব দিয়েছে তা নিয়ে সমমনা অনেক জোট ও দলের মধ্যে মতানৈক্য রয়েছে। কিন্তু গণতন্ত্র মঞ্চের নেতাদের দাবি বিএনপির সাথে আলোচনা করে ৭দফার খসড়া তৈরী হয়ে গেছে। মার্চের ১০-১৫ তারিখের মধ্যে ঘোষণা আকারে সেটা গণমাধ্যমকে জানানো হতে পারে বলে তাদের দাবি।

৭ দফার বিষয়ে জানতে চাইলে গণতন্ত্র মঞ্চের নেতা ও বিপ্লবী ওয়াকার্স পার্টির সাধারন সম্পাদক কমরেড সাইফুল হক নয়া দিগন্তকে বলেন, বিএনপি ১০ দফা দাবিতে যুগপৎ আন্দোলনের কর্মসূচী ঘোষণা করেছিল। আমরাও ১৪ দফা দাবির ঘোষণা দিয়েছিলাম। সে সকল দাবিকে সামনে রেখেই আমরা যুগপৎ আন্দোলন চালিয়ে আসছি। সময়ের প্রয়োজনে দফাগুলো কমিয়ে সমন্বয় করার মাধ্যমে ৭ দফার খসড়া তৈরী করা হয়েছে। এবিষয়ে আলোচনা শেষ পর্যায়ে।

আশাকরি মার্চের ১০-১৫ তারিখের মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে ৭দফার ঘোষণা দিতে পারবো।
এবিষয়ে জানতে চাইলে গণঅধিকার পরিষদের সদস্য সচিব ভিপি নুরুল হক নূর বলেন, যুগপৎ আন্দোলনকে আরো ত্বরান্বিত করতে বিএনপির সাথে আলোচনার ভিত্তিতে ৭দফা দাবির একটি খসড়া তৈরী হয়েছে। আশাকরি খুব শিগ্রই সেটি ফাইনাল হয়ে যাবে।

এদিকে ৭দফার বিষয়ে জানতে চাইলে, ১২দলীয় জোটের সমন্বয়ক ও কল্যানপার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অবঃ) সৈয়দ মোহাম্মদ ইব্রাহীম বীর প্রতীক বলেন, আমরা ৭দফার বিষয়ে একটা আলোচনা শুনেছি। যেহেতু বিএনপির সাথে আমাদের এবিষয়ে কোনো আলোচনা হয়নি তাই আমরা এবিষয়ে কিছু জানিনা।

এবিষয়ে জানতে চাইলে ১২দলীয় জোটের অন্যতম নেতা ও লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান নয়া দিগন্তকে বলেন, বিভিন্ন গণমাধ্যমের মাধ্যমে আমরা জানতে পেরেছি গণতন্ত্র মঞ্চ বিএনপির কাছে ৭দফার একটি প্রস্তাব দিয়েছে। এটা শুধুমাত্র একটি প্রস্তাব, কোনো সিদ্ধান্ত না। আর আমাদের সাথে বিএনপির এবিষয়ে কোনো আলোচনা হয়নি।

তিনি আরো বলেন, গণতন্ত্র মঞ্চ বিএনপির কাছে যে ৭দফার প্রস্তাব দিয়েছে তার কয়েকটি দফার সাথে আমাদের ভিন্নমত রয়েছে। তাদের জাতীয় সরকারের প্রস্তাবের বিষয়টি আমরা আমরা ক্লিয়ার না। আমরা মনেকরি জাতীয় সরকার হতে হবে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের পর বিএনপি ক্ষমতায় আসলে। তখন যুগপৎ আন্দোলনে থাকা সকল দলের অংশগ্রহণে একটি জাতীয় সরকার হবে। নির্বাচনের আগে কোনো জাতীয় সরকার না। এছাড়া সংবিধানের ৭০-অনুচ্ছেদের বিষয়ে তারা যে প্রস্তাব উল্লেখ করেছে তারসাথে আমরা ঐক্যমত না। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপ্রতির ক্ষমতার যে ভারসাম্যের কথা বলা হয়েছে আমরা মনেকরি এগুলো এখন আলোচনার বিষয় না। এখন দফা হওয়া দরকার শুধুমাত্র দুটো। ১-বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ও ২-নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন। এছাড়া অন্যসকল দফা আন্দোলনকে বিপথে পরিচালিত করবে।

এসব দফার বিষয়ে জানতে চাইলে গণফোরামের সাধারন সম্পাদক সুব্রত চৌধুরী নয়া দিগন্তকে বলেন, যার যার দলের আলাদা আলাদা দফা থাকতে পারে। যেমন আমাদের ৫দফা আছে। তবে আমরা যখন একমঞ্চে আন্দোলনে আসবো তখন এসকল দফা কমিয়ে ১/২ দফায় আনতে হবে। জনগণ এতো দফা বুঝবে না। দফা হতে হবে, নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন ও খালেদা জিয়াসহ রাজনৈতিক নেতাদের মুক্তি। অনেক দফা থাকলে মতানৈক্য তৈরী হবে, আন্দোলন বাধাগ্রস্ত হবে। যার সুফল ভোগ করবে বর্তমান সরকার।

সমমনা পেশাজীবী গণতান্ত্রিক জোটের সমন্বয়কারী মুহাম্মদ সাইদুর রহমান বলেন, আমাদের কোনো দফা নাই। বিএনপির দফাগুলোই আমাদের দফা। তবে গণতন্ত্র মঞ্চ সংবিধানের ৭০-অনুচ্ছেদ নিয়ে যে দফার প্রস্তাব দিয়েছে তারসাথে আমরা একমত না। আমরা চাই নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি। সেই লক্ষ্যে বিএনপির সকল সিদ্ধান্তের সাথে আমরা একমত।

৭দফার বিষয় জানতে চাইলে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও লিয়াঁজু কমিটির সদস্য সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল নয়া দিগন্তকে বলেন, গণতন্ত্র মঞ্চ ৭দফার একটি প্রস্তাব দিয়েছে। কিন্তু এখনো এবিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে ভাষাগত ভিন্নতা থাকলেও সকল দলের দফাগুলোর অর্থ এক। তাই আন্দোলনের সার্থে সকলের সাথে আলোচনা করে শিগ্রই সম্মিলিতভাবে কিছু দফা কমিয়ে নতুন কর্মসূচী ঘোষণা আসবে।

আরো দেখুন
Advertisment
বিজ্ঞাপন

সবচেয়ে জনপ্রিয়