সোমবার, এপ্রিল ২২, ২০২৪
spot_img

বিস্ফোরণের ঘটনায় কেঁপে উঠেছিল পুরো সায়েন্সল্যাব

সংবাদ ডেস্কঃ রোববার ৫ মার্চ বিকেলে ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বিশেষজ্ঞ দলের প্রধান ও সেনাবাহিনীর ৫৭ ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানির কমান্ডিং অফিসার মেজর মো. কায়সার বারী জানান, ঢাকার সায়েন্সল্যাব শিরিন ম্যানশনের তৃতীয় তলায় বিস্ফোরণের ঘটনায় বিস্ফোরক দ্রব্য ব্যবহারের আলামত পাওয়া যায়নি।

মেজর কায়সার বারী বলেন, আমরা প্রাথমিকভাবে বিস্ফোরক শনাক্তকরণ যন্ত্র দিয়ে ঘটনাস্থলে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালিয়েছি। প্রাথমিক পর্যবেক্ষণের পর আমরা মনে করছি এ বিস্ফোরণ বিস্ফোরক দ্রব্যের মাধ্যমে সংঘটিত হয়নি। যদি বিস্ফোরণের ঘটনায় কোনো বিস্ফোরক দ্রব্য ব্যবহার করা হতো তাহলে আমাদের যন্ত্রের মাধ্যমে সেটা বুঝতে পারতাম।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এটা যেকোনো ধরনের বিস্ফোরণ হতে পারে। তবে প্রকৃত কারণ জানার জন্য আমাদের আরও তদন্ত করতে হবে। আমরা যেহেতু বিস্ফোরক শনাক্ত করি আমাদের যন্ত্র দিয়ে, তাই প্রাথমিকভাবে আমরা বলতে পারি এখানে বিস্ফোরক দ্রব্যের কোনো আলামত পাওয়া যায়নি। এখানে বারুদ বা আইইডি ব্যবহারের কোনো আলামত পাওয়া যায়নি। বিস্ফোরণের আসল কারণ আরও তদন্ত শেষে পরে জানা যাবে।

উল্লেখ্য, রোববার সকাল ১০টা ৫০ মিনিটের দিকে সায়েন্সল্যাব মোড় থেকে নিউমার্কেটের দিকে যাওয়ার পথে প্রিয়াঙ্গন শপিং মলের পাশের ভবন শিরিন ম্যানশনে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। বিস্ফোরণের ঘটনায় তিনজন নিহত এবং ১৪ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে আটজনকে ভর্তি করা হয়েছে। বাকি ছয়জনকে শেখ হাসিনা বার্ন ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে।

রোববার(৫ মার্চ) দুপুর আড়াইটায় ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার খন্দকার গোলাম ফারুক বলেন, সায়েন্সল্যাব এলাকার ভবনে বিস্ফোরণের ঘটনা নাশকতা নয়, এটি একটি দুর্ঘটনা। বিস্ফোরণের ঘটনাটি বিভিন্ন কারণে ঘটতে পারে। সেটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

তিনি বলেন, বিস্ফোরণের ঘটনা তদন্তে আমরা একটা তদন্ত কমিটি করব। তদন্ত কমিটি ফায়ার সার্ভিস এবং ঘটনাস্থলে কাজ করা এক্সপার্টদের ওপিনিয়ন (মতামত) নেবেন। পরে তারা একটি তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করবেন। প্রাথমিকভাবে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে মনে হচ্ছে এটি নাশকতা নয়, দুর্ঘটনা থেকে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটতে পারে। বিশেষজ্ঞরা কাজ করছেন।

বিল্ডিংয়ের অবস্থা এখন পর্যন্ত খুবই ঝুঁকিপূর্ণ, বিল্ডিংয়ের অবস্থা ভালো নয়। ভবনটির তিনতলায় ছোট ছোট কয়েকটি অফিস ছিল এবং একটি ইনস্যুরেন্স কোম্পানির অফিস ছিল। যে পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে আমি মনে করি এই মুহূর্তে ভবনটিতে কারো প্রবেশ করা উচিত হবে না। আমরা ঝুঁকি নিয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে ঘটনাস্থল ঘুরে এসেছি, পরিদর্শন করেছি।

ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার ড. খ. মহিদ উদ্দিন বলেন, প্রাথমিকভাবে বিস্ফোরণের কারণ বলা যাচ্ছে না। ধারণা করা হচ্ছে চারটি কারণে এখানে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটতে পারে। সেগুলো হলো, শর্ট সার্কিট, জমে থাকা গ্যাসের বিস্ফোরণ, গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ বা এসি বিস্ফোরণ। তবে এই মুহূর্তে সঠিক কারণ বলা যাচ্ছে না। তদন্ত শেষ হলে সঠিক কারণ জানা যাবে।

ভবনটির সিকিউরিটি গার্ড আব্দুল কাদির বলেন, বিস্ফোরণের সময় ভবনের গেটে একটি চেয়ারে বসেছিলাম। বিস্ফোরণে ভবনসহ আমার চেয়ার কেঁপে ওঠে। বিকট শব্দে পুরো এলাকা প্রকম্পিত হয়। এর কিছুক্ষণ পরেই ভবনের বাসিন্দারা আতঙ্কিত হয়ে নিচে নামতে থাকেন। পরে বের হয়ে দেখি তিন তলা ভবনটির সামনে মানুষ পড়ে আছে আর ভেতরে সবকিছু চুরমার হয়ে গেছে।

বিস্ফোরণের ঘটনায় কেঁপে উঠেছিল পুরো সায়েন্সল্যাব এলাকা। কেঁপে উঠেছিল আশপাশের বহু ভবন। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, বিস্ফোরণটি অনেক শক্তিশালী ছিল।

আরো দেখুন
Advertisment
বিজ্ঞাপন

সবচেয়ে জনপ্রিয়