সোমবার, জুলাই ১৫, ২০২৪
spot_img

হামলা ও লুটপাটের রেশ ধরে আড়াইহাজারে আবারও সংঘর্ষ, নিহত ১

সংবাদ সিক্সটিনঃ আড়াইহাজারে খাগকান্দা ইউনিয়নের বাহেরচর গ্রামে এলাকার আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ১৬ বাড়ী লুটপাটের ঘটনার রেশ ধরে আবারো মামলার বাদী আবুল হোসেনকে  (৪২) কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর আহত করা হয়েছে।  এ ঘটনায়  হাতেম আলী (৬০) নামে এক লোক নিহত হয়েছেন। নিহতের ঘটনায় পুলিশ বলছে লোকটি স্টোক করে  মারা গেছে। নিহত  হাতেম আলীর পরিবারের দাবী  হাতেম আলীকে মেরে ফেলা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সকাল ১১টার দিকে উপজেলার খাগকান্দা  ইউনিয়নের বাহেরচর গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। পুলিশ ও  প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আবুল হোসেন নামের একজনকে পিটিয়ে আহত করার পর এলাকায় উত্তেজনা দেখা দেয়।  খবর পেয়ে থানার ওসি আহসান উল্লাহ সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে যান। এক পর্যায়ে এ ঘটনায়  নিহত  হাতেম আলীর পক্ষের লোকজন পুলিশের উপর হামলা করে লাশ আনতে বাধাঁ দেয়। পরে থানা থেকে অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে বেশ কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি করেও  পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ব্যর্থ হয়। পরে পুলিশ পিছন হটতে বাধ্য হয়।

এদিকে হাতেম আলীর লোকজন নিজেরাই হাতেম আলী লাশ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়।  খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার   ইশতিয়াক আহমেদ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

আড়াইহাজার থানার ওসি আহসান উল্লাহ জানান, এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ওই এলাকার আওয়ামীলীগ নেতা তোফাজ্জল হোসেন এবং ৫ নং ওয়ার্ড সদস্য জুলহাস মেম্বার ও শাহ আলমের মধ্যে দীর্ঘ দিন ধরে দ্বন্দ্ব চলে আসছিল। গত সোমবার (২৬ ফেব্রুয়ারী) রাতে জুলহাস মেম্বার ও শাহ আলমের পক্ষের লোকেরা তোফাজ্জল এবং মহিলা ইউপি সদস্য আফরোজার বাড়ী সহ ১৬ বাড়ীতে হামলা, ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটায়। এ নিয়ে তোফাজ্জলের ভাই আবুল হোসেন বাদী হয়ে ২৮ ফেব্রুয়ারী থানায় একটি  মামলা দায়ের করেন।

বৃহষ্পতিবার সকালে তোফাজ্জলের ভাই আবুল হোসেন (৪২) বাহেরচর বাজারে তার দোকান ঘর খুলতে গেলে তাকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর আহত করে জুলহাস মেম্বারের লোকেরা। তাকে সঙ্গে সঙ্গে আড়াইহাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এনে ভর্তি করা হলে এলাকায় এ নিয়ে আবারো উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে  পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। এলাকায় পুলিশ যাওয়ার সংবাদে জুলহাস মেম্বারের পক্ষের লোকজন এদিক ওদিক ছুটোছুটি করতে থাকে। এ সময়  জমিতে কাজ করতে থাকা হাতেম আলী আতঙ্কিত হয়ে  মারা যায়।

আড়াইহাজার থানার ওসি মোহাম্মদ আহসানউল্লাহ আরও  জানান, হাতেম আলীর মৃত্যু ষ্ট্রোক জনিত কারণে হয়েছে  বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিষয়টি পরিষ্কার হওয়ার জন্য লাশের ময়না তদন্তের দরকার। লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। পরিস্তিতি আপাতত শান্ত রয়েছে। আমিসহ পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে অবস্থান করছি। ময়না তদন্তের পর বিস্তারিত জানা যাবে হাতেম আলীর মৃত্যু স্টোক জনিত না কি হত্যা?

হাতেম আলীর ঘটনায় হত্যা মামলা হবে কিনা জানতে চাইলে ওসি বলেন, উপর মহলের সাথে আলাপ করে সিন্ধান্ত নিব। আগে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনি। এ ব্যাপারে তোফাজ্জল ও জুলহাস মেম্বারের সাথে যোগাযোগ করলে তারা মুঠাফোনে কল রিসিভ করেনি।

আরো দেখুন
Advertisment
বিজ্ঞাপন

সবচেয়ে জনপ্রিয়