সোমবার, ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০২৪
spot_img

কক্সবাজারে মাদক ব্যবসায়ী শেখ আহমেদের ইয়াবার ওপেন হাট

মনসুর আলম মুন্না, কক্সবাজারঃ একসময় মাছ বিক্রি করে সংসার চালাতো শেখ আহমেদ। পরে এসবে সংসার চলতোনা বলে সৈকতে বিচ বাইকের জব করতো। সবমিলিয়ে সংসারের চাহিদা এবং বড়লোক হওয়ার স্বপ্নেই প্রতিদিন যেন তার একধরনের চিন্তা চেতনায় লেগেই থাকত। পরে কোন একমাধ্যমে সিদ্ধান্ত পাল্টায় ইয়াবা ব্যবসা করে কোটিপতি হওয়ার। বর্তমানে ইয়াবার ছোঁয়ায় লাখ লাখ টাকার মালিক। পাঠক এসব ছিল কক্সবাজার পৌরসভা ৯ নং ওয়ার্ড ঘোনারপাড়ার বাসিন্দা শেখ আহমেদের কথা।

কক্সবাজারে শীর্ষ খুচরা ইয়াবা ব্যবসায় সফল একজন মাদক কারবারি। তার প্রতিদিন আয়ের উৎস হচ্ছে খুচরা ইয়াবা বিক্রি করে সংসার চালানো এবং মোটা টাকা গুনতে নিজস্ব কৌশল। সকাল থেকে শুরু করে ২৪টি ঘন্টায় মিলে যাবে নাগালের ভিতরে এই ইয়াবা। কক্সবাজারের বিভিন্ন জায়গা থেকে মাদকসেবীরা এসে অনায়াসে মাদক সেবন করতে পারে। একইসাথে বসে ইয়াবা খাওয়ার সূ ব্যবস্থা রয়েছে তার ঘরে। আর এসব মাদক ব্যবস্থা করে দেন স্থানীয় হেলাল নামের একজন শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী। হেলাল র‍্যাব-১৫ এর হাতে বিপুল পরিমাণ ইয়াবাসহ আটকও হয়েছিল।

শেখ আহমেদ একজন আপাদমস্তক ভদ্রবেশী মাদক ব্যবসায়ী। বয়স ৫৫ থেকে ৬০ এর উর্দ্ধে হলেও তার নিজের লেবাস যেন একধরণের সুস্পষ্ট বিলাসিতার ভাব । তার মাদকের দোকান অর্থাৎ নিজের ঘর থেকে মাদক কিনেই খাওয়া যায়। তবে তিনি এসব করেন বিভিন্ন জনকে ম্যানেজ করে। পুলিশ একাধিকবার খবর পেয়ে অভিযানে গেলেও অদৃশ্য কারণে রক্ষা পেয়ে যান এই মাদক কারবারি। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ ও একাধিক স্থানীয় সোর্সকে মাসিক মাসোহারা দিয়ে মাদক ব্যবসা করেন। তবে সবকিছু মিলিয়ে তিনি এই ব্যবসায় স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন।

একসময় নুন আনতে পান্তা ফুরালেও এখন মাদকের টাকায় কাঁড়ি কাঁড়ি করে বিপুল পরিমাণ অর্থের মালিক এই মাদক ব্যবসায়ী শেখ আহমেদ। তার মাদক ব্যবসা যেন একবারেই ওপেন হাট। এসব দেখলেও যেন প্রশাসন না দেখার ভান ধরে ঘাপটি মেরে বসে থাকে। তার দীর্ঘদিনের মাদক ব্যবসায় সহযোগী ও সর্বোচ্চ শেল্টার দিচ্ছে স্থানীয় বেশ কয়েকজন বকাটে মাদকসেবি ও মাদক কারবারি।

স্থানীয় একজন মুদির দোকানি (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) বলেন, শেখ আহমেদ দীর্ঘদিন ধরে ইয়াবা ব্যবসা করে এলাকার লোকজনকে মাদক সেবনের ব্যবস্থা করে দিয়ে সমাজকে নষ্ট করে দিচ্ছে। নানা কৌশলে তার ঘর ইয়াবা বানিজ্যে যেন এখন হাট বাজার। বিভিন্ন ধরনের মাদক সেবনকারীরা এসে ইয়াবা কিনে এবং সেবন করে। এতে কেউ প্রতিবাদ করেনা। প্রতিবাদ করলেও যেন একধরণের শনির দশা মনে করেন এই দোকানী।

এবিষয়ে শেখ আহমেদ প্রশ্নের উত্তরে বলেন, আমি এখন চাকরি করি বিচ বাইকের। আমি খাইওনা বিক্রিও করিনা। এসব নাটক এবং মিথ্যা কথা বলে কল কেটে দেন। এদিকে স্থানীয় ৯ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর হেলাল উদ্দিন কবিরের কাছে জানতে চাইলে , তিনি মোবাইলে বক্তব্য দেয়ার বিষয়ে অপরাগতা প্রকাশ করেন। সেই সাথে পৌর কার্যালয়ে যেতে বলে মোবাই কেটে দেন।

এবিষয়ে কক্সবাজার সদর মডেল থানার ওসি রাকিবুজ জামান বলেন, নতুন এসে এখনো তেমন মাদক কারবারি চিনতে পারিনি। তবে এইরকম যদি কোন সন্ধান পাওয়া যায় ঐ এলাকায় অভিযান চালিয়ে তার বিরুদ্ধে যথাযথ আইনী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আরো দেখুন
Advertisment
বিজ্ঞাপন

সবচেয়ে জনপ্রিয়