মঙ্গলবার, জুন ২৫, ২০২৪
spot_img

সমঝোতার আসনে থাকছেনা নৌকা

সংবাদ ডেস্কঃ আসন সমঝোতার জন্য ফের বৈঠকে বসেছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও জাতীয় সংসদের প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পার্টি। শনিবার জাতীয় সংসদ ভবনে সরকারি দলের এক নেতার কার্যালয়ে দুপক্ষের শীর্ষ নেতারা বৈঠক করেন। আগের দিন শুক্রবার রাতে একই স্থানে বৈঠকে বসলেও আসন সমঝোতা প্রশ্নে কাঙ্ক্ষিত সমাধানে পৌঁছাতে পারেনি। তাই মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের আগের রাতে তারা আরও একদফা বৈঠকে মিলিত হন।

এতে আওয়ামী লীগের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন দলটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম এবং সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম। জাতীয় পার্টির পক্ষে ছিলেন দলের সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ এবং মহাসচিব মো. মুজিবুল হক চুন্নু।

বিএনপিসহ তাদের বলয়ে থাকা বিরোধী দলগুলোর বর্জনের মধ্যেই ৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ২৯৮টি আসনে প্রার্থীর নাম ঘোষণা করে। অপরদিকে ২৯৪ আসনে প্রার্থী দিয়েছে জাতীয় পার্টি। রোববার মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন। সোমবার প্রতীক বরাদ্দ। আসন সমঝোতা বা ভাগাভাগি যা করার এর আগেই করতে হবে। ইতোমধ্যে কয়েক দফা বৈঠকের পর আওয়ামী লীগ তাদের দীর্ঘদিনের শরিক ১৪ দলের তিন দল বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জাসদ এবং জাতীয় পার্টি-জেপিকে সাতটি আসনে ছাড় দেওয়ার কথা জানিয়েছে।

এখন চলছে জাতীয় পার্টির সঙ্গে আসন সমঝোতা নিয়ে আলাপ-আলোচনা। বৃহস্পতিবার রাতে দুদলের মধ্যে আসন নিয়ে শেষ সময়ের দফারফা চলে। শনিবার আরও একদফা আলোচনায় বসে বিষয়টি ফয়সালা করার কথা। বিষয়টি নিশ্চিত করে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক জানিয়েছেন, জাতীয় পার্টির সঙ্গে তাদের অত্যন্ত সৌহার্দ পরিবেশে আলাপ-আলোচনা হয়েছে। শনিবারের মধ্যে এ বিষয়ে সুস্পষ্ট ঘোষণা দেওয়া হবে।

তবে এ বিষয়ে জাতীয় পার্টির বক্তব্য ভিন্ন। দলটির মহাসচিব মো. মুজিবুল হক চুন্নু শনিবার বলেছেন, শুধু একটি বিষয় নিয়ে আলোচনা হচ্ছে না। নির্বাচন কিভাবে অবাধ ও সুষ্ঠু হয়, ভোটের পরিবেশ কিভাবে সুন্দর থাকে, ভোটাররা কিভাবে নির্বিঘ্নে ভোটকেন্দ্রে এসে তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারে- এসব নিয়েও আলোচনা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, এ ধরনের আলাপ-আলোচনা ক্ষমতাসীন দলের সঙ্গে অব্যাহত থাকবে।

টানা দুবারের প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পার্টির বর্তমান একাদশ জাতীয় সংসদে ২৩ জন সদস্য রয়েছেন। তাদের মধ্যে চারজন ছাড়া বাকিরা এবারও দলীয় প্রতীকে নির্বাচনি যুদ্ধে অবতীর্ণ হবেন। চারজনের মধ্যে আবার বিরোধীদলীয় নেতা ও জাতীয় পার্টির প্রধান পৃষ্ঠপোষক রওশন এরশাদ এবং তার ছেলে রাহগির আল মাহি সাদ এরশাদ এবার নির্বাচন করছেন না। জাতীয় পার্টির সাবেক মহাসচিব মশিউর রহমান রাঙ্গা এবং ডা. রুস্তম আলী ফরাজী দল থেকে ইতিঃপূর্বে বাদ পড়েছেন।

আওয়ামী লীগ সূত্রে জানা গেছে, বর্তমান সংসদের ১৯ সদস্যের আসনের পাশাপাশি নতুন করে আরও সাতটি আসনে জাতীয় পার্টির সমর্থনে দলীয় প্রার্থী সরিয়ে নেবে আওয়ামী লীগ। তবে শেষ পর্যন্ত কতটি আসনে আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির সমঝোতা হয় তা অস্পষ্টই রয়ে গেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আসন সমঝোতা হলে ছাড় দেওয়া আসনে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে নৌকার প্রার্থী দেওয়া হবে না। তবে তাদের শাসক দলের স্বতন্ত্র প্রার্থীর সঙ্গে ভোটের লড়াই করতে হবে। স্বতন্ত্র প্রত্যাহারে আওয়ামী লীগ কোনো দলের সঙ্গেই আপস করতে রাজি নয়। প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন স্বতন্ত্র কোনো প্রার্থী বসিয়ে দেওয়ার কারও কোনো অনুরোধ তিনি রাখতে পারবেন না। কারণ নিজ দলের অনেকেরও স্বতন্ত্র তুলে দেওয়ার বিশেষ অনুরোধ তার কাছে ছিল। তাদের অনুরোধও রাখতে পারেননি তিনি।

একাধিক সূত্র জানায়, জোটের তিন দলকে ছেড়ে দেওয়া সাতটি আসনে নৌকা প্রতীকে নির্বাচন হবে। এছাড়া জাতীয় পার্টিসহ অন্য দলকে ছেড়ে দেওয়া আসন কৌশলগত কারণে প্রকাশ করা হবে না। সমন্বয় করা আসনে নৌকার প্রার্থী প্রত্যাহার করে নেওয়া হবে। সেখান থেকে বোঝা যাবে জাতীয় পার্টি কতগুলো আসনে সমঝোতা করল। রোববার মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ সময়। এদিন সমন্বয় করা আসন থেকে আওয়ামী লীগ প্রার্থীদের প্রত্যাহার করা হবে।
২০১৮ সালের নির্বাচনে জাতীয় পার্টির সঙ্গে সমঝোতা হয় ২৭টি আসনে। তবে সাতটি আসন উন্মুক্ত রাখা হয়।

নির্বাচনে জাতীয় পার্টি ২২ আসনে জয়ী হয়। পরে উপনির্বাচনে আরও একটি আসনে জয়ী হলে দলটির সংসদ-সদস্যের সংখ্যা দাঁড়ায় ২৩। এর আগে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির বিএনপিহীন নির্বাচনে জাতীয় পার্টিকে ৪২ আসনে সমর্থন দেয় আওয়ামী লীগ। এবারের নির্বাচনে আসন সমঝোতা নিয়ে আওয়ামী লীগের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করার পাশাপাশি পুরোদমে নির্বাচনি প্রস্তুতিও চালিয়ে যাচ্ছে জাতীয় পার্টি। জানা গেছে, ইতোমধ্যে দলীয় মনোনয়ন পাওয়া প্রার্থীদের প্রতীক বরাদ্দের কাগজপত্রও চূড়ান্ত করেছে দলটি।

আওয়ামী লীগ ১৯৯৬ সালে জাতীয় পার্টির সমর্থন নিয়ে প্রথমবারের মতো সরকার গঠন করে। এরপর ২০০৮ সালে তারা জাতীয় পার্টির সঙ্গে মহাজোট গঠন করে নির্বাচনে অংশ নেয় এবং দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। পরে আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোটে না থাকলেও আসন সমঝোতা করে ভোটে অংশ নিয়ে জাতীয় পার্টি টানা দুইবার প্রধান বিরোধী দলের আসনে বসে। এবারের নির্বাচনেও আওয়ামী লীগ এবং জাতীয় পার্টি একই পথে হাঁটছে বলেই রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

আরো দেখুন
Advertisment
বিজ্ঞাপন

সবচেয়ে জনপ্রিয়