রবিবার, মে ১৯, ২০২৪
spot_img

সোনারগাঁয়ে বাবা-ছেলে ও দুই ভাইসহ নৌকার মনোনয়ন চায় ষোল জন

সংবাদ সিক্সটিনঃ আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁ) আসন থেকে নৌকার মাঝি হতে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন বাবা-ছেলে ও দুই ভাইসহ ১৬ জন। এদের মধ্যে সকলেই মনোনয়নপত্র পূরণ প্রক্রিয়া শেষ করেছেন। উল্লেখ্য, এ আসনটি ২০১৪ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনে মহাজোট থেকে জাতীয় পার্টির অতিরিক্ত মহাসচিব লিয়াকত হোসেন খোকা এমপি হয়ে দখলে রেখেছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, সোনারগাঁ আওয়ামীলীগে দীর্ঘদিন যাবত কোন্দল চলছে। এত বেশি-সংখ্যক নেতা মনোনয়ন প্রত্যাশী হওয়ায় দলীয় কোন্দল আরো বেশি স্পষ্ট হয়ে গেছে। এতে করে আসনটি আবারও নৌকার হাতছাড়া হয়ে যেতে পারে!

গত ৩ সেপ্টেম্বর সোনারগাঁ উপজেলা আওয়ামীলীগের এক সম্মেলনে দলটির ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম এমপির কাছে নৌকার প্রার্থী চান স্থানীয় নেতারা। জবাবে মির্জা আজম বলেছেন, দলীয় প্রার্থী চান আবার কোন্দল করে নৌকা ডুবাবেন-তা হবে না, তার চেয়ে লাঙ্গলই ভালো।

এদিকে মহাজোট তথা স্থানীয় জাতীয়পার্টি নেতারা তাদের ফেসবুকে আলহামদুলিল্লাহ “আবারও খোকা আবারও উন্নয়ন” বলে বিভিন্ন স্ট্যাটাস দিয়ে যাচ্ছে, যা রীতিমতো ভাইরাল হয়ে গেছে। এছাড়াও সোনারগাঁয়ের আপামর জনসাধারণেও গুঞ্জন উঠেছে আওয়ামীলীগের দলীয় কোন্দলের কারনে সোনারগাঁয়ে আবারও লিয়াকত হোসেন খোকা এমপি হতে যাচ্ছে।

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হতে আওয়ামীলীগের মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সাবেক সাংসদ ও সোনারগাঁ উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল কায়সার, সোনারগাঁ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শামসুল ইসলাম ভূঁইয়া, তাঁর ছেলে নগদ এর নির্বাহী পরিচালক মারুফুল ইসলাম ঝলক, নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. আবু জাফর চৌধুরী বীরু, সোনারগাঁ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান কালাম, সংরক্ষিত আসনের সাবেক সংসদ সদস্য হোসনে আরা বাবলী, সোনারগাঁ উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান বাবুল ওমর বাবু ও তাঁর বড় ভাই কাঁচপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের নেতা দীপক কুমার বণিক, সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ নেতা এ এইচ এম মাসুদ দুলাল, উপজেলা আওয়ামীলীগের সদস্য এরফান হোসেন দীপ ও তাঁর চাচা মনির হোসেন, আওয়ামীলীগ নেতা লিপি পেপার মিলের মালিক শিল্পপতি মতিন খান, শ্রমিকলীগ নেতা জসিম উদ্দিন, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা তারেক জাহাঙ্গীর আইয়ুব খাঁন ও আওয়ামীলীগ নেতা আনোয়ার হোসেন। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি অংশগ্রহণ করবেনা বলে সোনারগাঁ থেকে কেন্দ্রীয় বিএনপির নির্বাহী সদস্য ও থানা বিএনপির সভাপতি আজহারুল ইসলাম মান্নান নিরব’ই রয়েছেন।

অপরদিকে মনোনয়ন কিনেননি উপজেলা আওয়ামীলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি ও পিরোজপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মাসুদুর রহমান মাসুম। যিনি উপজেলা আওয়ামীলীগের কঠিন কোন্দল মূহুর্তে আর্থিক ও কর্মী সমর্থকদের সাথে নিয়ে সোনারগাঁ আওয়ামীলীগকে সচল রেখেছেন। ইঞ্জিনিয়ার মাসুমের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আবারও প্রধানমন্ত্রী হবেন এটাই হোক আমার রাজনীতি। দেশে যে অবস্থা চলছে আমাকে এমপি হতেই হবে আমি এমন রাজনীতি করিনা। আল্লাহ চাইলে ভবিষ্যতে আমার কর্মই আমাকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।

আওয়ামীলীগের একাধিক নেতার দাবী নির্বাচন এলেই এ আসনে নৌকার মনোনয়নপ্রত্যাশীর অভাব হয়না, অথচ সারাবছর তারা জনগণের খোঁজখবর নেয়না। অনেককে দলীয় কর্মসূচিতেও দেখা যায় না।

স্থানীয় জৈষ্ঠ রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ জানান, এখনো সোনারগাঁ আওয়ামীলীগ তাদের নির্বাচনী শক্তি তৈরি করতে পারেনি। এজন্যই তাদের নেতৃবৃন্দের মধ্যে অভ্যন্তরীণ কোন্দল লেগেই আছে। ফলস্বরূপ সোনারগাঁ থেকে নৌকার মনোনয়ন প্রত্যাশী ১৬ জনে দাড়িয়েছে। এতে ইতিবাচক দিক থেকে নেতিবাচক দিকটিই বেশি প্রভাব ফেলবে। এই সুযোগটি হয়তোবা জাতীয় পার্টি কিংবা মহাজোটের অন্য কোনো শরীক দল নিতে পারে।

সাবেক সাংসদ ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল কায়সার বলেন, দীর্ঘ ১০ বছর আওয়ামীলীগ থেকে এ আসনে কেউ প্রতিনিধিত্ব না করায় স্থানীয় আওয়ামী নেতৃবৃন্দসহ সাধারন মানুষ অসহায় হয়ে পড়েছে। আমরা প্রধানমন্ত্রীর কাছে এবার এ আসনে নৌকা চাই। আশা করি নেত্রী এবার এ আসনে নৌকা মাঝি হিসেবে আমাকে মনোনীত করবেন।

আরো দেখুন
Advertisment
বিজ্ঞাপন

সবচেয়ে জনপ্রিয়