মঙ্গলবার, জুন ২৫, ২০২৪
spot_img

সোনাকান্দা কেল্লার ঐতিহ্য ও সৌন্দর্য রক্ষায় মেয়র আইভীর হস্তক্ষেপ কামনা

সংবাদ সিক্সটিনঃ প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের খামখেয়ালী ও উদাসীনতার কারনে ঐতিহ্য হারাতে যাচ্ছে নারায়নগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন ২১ নং ওয়ার্ড বন্দরের সোনাকান্দা কেল্লা। স্থানীয় এলাকাবাসী ও দর্শনার্থীদের মতে কেল্লাটি সংরক্ষণ ও সংস্কারের অভাবে দিন দিন তার অপরূপ সৌন্দর্য হারাতে বসেছে।

কেল্লার আশপাশে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ময়লা ফেলে স্তুপ করে রাখার কারনে দূর্গন্ত ছড়িয়ে থাকে। ফলে বিভিন্ন এলাকা থেকে ছুটে আসা দর্শনার্থীদের কেল্লার ভিতর বাহিরে অবস্থান করার মত পরিবেশ থাকে না। নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরশন ২১ নং ওয়ার্ডে অবস্থানরত ঈসাখাঁ কেল্লাটি ঐতিহ্য ও তার সৌন্দর্য দিন দিন হারিয়ে ফেলছে।

বন্দরের সোনাকান্দা দুর্গ মুঘল আমলে নির্মিত একটি জল দুর্গ। এটি ১৬৫০ সালের দিকে তৎকালীন বাংলার সুবাদার মীর জুমলা কর্তৃক নির্মিত হয়েছিল । এটি নারায়ণগঞ্জ জেলার বন্দর উপজেলায় শীতলক্ষ্যা নদীর পূর্বতীরে অবস্থিত।

১৫৫৭ সালে মুঘল সেনাপতি মুনিম খানের নিকট দাউদ খান কিররানির পরাজয়ের মধ্যদিয়ে বাংলা মুঘল সাম্রাজ্যের প্রত্যক্ষ নিয়ন্ত্রণে আসে। মুঘলরা বাংলায় একটি প্রগতিশীল শাসন ব্যবস্থা স্থাপনের লক্ষ্য বহিঃ শত্রুর হাত থেকে রক্ষা করতে দৃঢ় নীতি গ্রহণ করেন।

১৬৬০ খ্রিষ্টাব্দে মীর জুমলাকে তৎকালীন বাংলা প্রদেশের সুবাদার বা গভর্নর হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়। তিনি জলদস্যু দ্বারা বাংলার গুরুত্বপূর্ণ শহর গুলোতে লুটতরাজ চালানোর ব্যাপারে অবগত ছিলেন। জলদস্যুদের আক্রমণ থেকে রাজধানী ঢাকাকে রক্ষা করতে তিনি ঢাকার আশেপাশে তিনটি জল দুর্গ নির্মাণ এর সিদ্ধান্ত নেন। নারায়ণগঞ্জের সোনাকান্দা দুর্গ তার মধ্যে একটি। এই দুর্গ নির্মাণের তারিখ সম্বলিত কোন শিলালিপি পাওয়া যায়নি। তবে ঐতিহাসিকদের মতে এটি ১৬৬০ থেকে ১৬৬৩ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে নির্মিত হয়েছিল।

কেল্লার সৌন্দর্য বর্ধন করা হলে এখানে প্রচুর পর্যটকদের সমাগম ঘটবে। আর এই বন্দরের সোনাকান্দা কেল্লার দ্রুত সংস্কারের জন্য প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের উর্ধতন কর্মকর্তা ও নাসিক মেয়র ডা: সেলিনা হায়াত আইভি’র জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করছেন স্থানীয় এলাকাবাসী সহ দর্শনার্থী।

আরো দেখুন
Advertisment
বিজ্ঞাপন

সবচেয়ে জনপ্রিয়