শনিবার, এপ্রিল ১৩, ২০২৪
spot_img

সরকার গণতন্ত্রকে হরন করেছে, আমাদের ফিরিয়ে আনতে হবে: ড. মঈন খান

সংবাদ সিক্সটিনঃ বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান বলেছেন, এ সরকার উন্নয়নের নামে মেগা দুর্নীতি করেছে। দেশনেত্রী আমাকে কিছুদিনের জন্য পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দিয়েছিলেন। আজ যখন সরকারের কেউ ১০ কোটি টাকা প্রকল্প নিয়ে যায় সরকার সেটিকে বাড়িয়ে ১০০ কোটি টাকা করে নিয়ে যেতে বলে। ৫০ কোটি ভাগাভাগি করে।

বুধবার (২৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ঢাকা নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের সাইনবোর্ড এলাকায় পাসপোর্ট অফিস সংলগ্ন গলিতে বিএনপির একদফা দাবিতে চলমান কর্মসূচির অংশ হিসেবে ফতুল্লার সমাবেশে অংশ নিয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

মঈন খান বলেন, এ সরকার গণতন্ত্রকে হরণ করেছে। এ গণতন্ত্রকে আমাদের ফিরিয়ে আনতে হবে। তাই আজ নারায়ণগঞ্জের মানুষ রুখে দাঁড়িয়েছে। আপনাদের ফতুল্লা বিএনপির সভাপতি শহীদুল ইসলাম টিটু পুলিশের গুলিতে চোখ হারিয়েছেন। বিএনপির কত নেতাকর্মী জীবন দিয়েছেন। তাদের এই আত্মত্যাগ যেন বৃথা যেতে না পারে। একটি স্বাধীন দেশের নাগরিক হিসেবে আমাদের দায়িত্ব দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা ও মানুষের গণতন্ত্র রক্ষা করা।

এ স্বৈরাচারী সরকার দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে দেশ চালাচ্ছে। তারা দাবি করে তারা নাকি স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি। যে সরকার গণতন্ত্র হরণ করে আজ অলিখিত বাকশাল কায়েম করেছে সে সরকার কোনোদিন মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি হতে পারে না। এ সত্য আজ শুধু বাংলাদেশের ভেতরে নয়, বাংলাদেশের বাইরের মুক্তিকামী বিশ্বের প্রতিটি মানুষ এটি টের পেয়ে গেছে।

দ্রব্যমূল্যে মানুষের নাভিশ্বাস উল্লেখ করে তিনি বলেন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে আজ মানুষের বিশ্বাস উঠে গেছে। রিজার্ভ এত দ্রুত কেন কমল তার জবাব এ সরকারকে দিতে হবে। যারা সুশাসনে বিশ্বাস করে তারা এদের বিরুদ্ধে। রিজার্ভ খালি করে ওরা আইএমএফের কাছে যেতে বাধ্য হয়েছে। অর্থনীতিকে তারা ধ্বংস করে দিয়েছে। এর জন্য সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত বাংলাদেশের মানুষ।

মুক্তিযুদ্ধের সময় আমরা বলতাম পাকিস্তান ২২টি ধনী পরিবার সৃষ্টি করেছে। আমরা এর প্রতিবাদ করেছিলাম। সালাম, বরকতরা মুক্তিযুদ্ধে গিয়েছিল গণতান্ত্রিক ও অর্থনৈতিক অধিকার রক্ষা করার জন্য। বিপরীতে আওয়ামী লীগ অশুভ কায়দায় কতগুলো পরিবার সৃষ্টি করেছে যারা মানুষের সম্পদ বিদেশে পাচার করে দিচ্ছে।

আওয়ামী লীগ বলে বিএনপি জন্ম নাকি ক্যাটনমেন্টে। আমরা বলতে চাই বিএনপির জন্ম ক্যান্টনমেন্টে হয়নি, আওয়ামী লীগের জন্মও তো ক্যান্টনমেন্টে হয়নি। সে ব্যাপারে আমি কথা বলব না, বললে তারা লজ্জা পাবে। আওয়ামী লীগের জন্ম তো গণতান্ত্রিকভাবে হয়েছিল। কেন তারা স্বাধীনতার দুই তিন বছরের মাথায় বাকশাল কায়েম করেছিল? বিএনপি গণতন্ত্র হরণ করেনি, উল্টো শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান সেই গণতন্ত্র ফিরিয়ে দিয়েছে। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান গণতন্ত্র জনগণের কাছে ফিরিয়ে দিয়েছিলেন।

তিনি বলেন, ডাক্তাররা বলেছেন বেগম খালেদা জিয়াকে চিকিৎসার জন্য বিদেশে নিতে হবে। সরকার মানবাধিকার ক্ষুণ্ন করে তাকে আটকে রেখেছে। এর জবাব আওয়ামী লীগকে দিতে হবে। আমরা আন্দোলন করছি ক্ষমতার জন্য নয়। আমরা আন্দোলন করছি মানুষের ভোটের অধিকার গণতান্ত্রিক অধিকারের জন্য। আমরা একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য আন্দোলন করছি। আওয়ামী লীগ ভালো কাজ করে থাকলে মানুষ তো তাদের ভোট দেবেই। স্পষ্ট করে বলতে চাই। আওয়ামী লীগ যদি মানুষের ইচ্ছার প্রতি শ্রদ্ধা করে তাহলে আমরা এরই মধ্যে দেখিয়ে দিয়েছি মানুষ আওয়ামী লীগকে ঘৃণা করে। আওয়ামী লীগ চলে যাক। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন হোক। আওয়ামী লীগ সে নির্বাচনে বিজয়ী হলে আমিও তাদের অভিনন্দন জানাব। কিন্তু ওরা জানে ওরা কত অপকর্ম করেছে। তাই ওরা সুষ্ঠু নির্বাচন দিতে ভয় পায়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম আজাদ, ঢাকা বিভাগীয় সহ সাংগঠনিক সম্পাদক বেনজির আহমেদ টিটু, বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক কমিটির সদস্য ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন, কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহ অর্থ বিষয়ক সম্পাদক মাহমুদুর রহমান সুমন, কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান ভূইয়া দিপু ও আজহারুল ইসলাম মান্নান।

বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপু বলেন, আজ সারা বাংলাদেশের গণতন্ত্র আইসিইউতে। খালেদা জিয়ার কিছু হলে যে আগুন জ্বলবে তা কেউ নেভাতে পারবে না।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী বলে তার ছেলের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত হলে কিছু আসে যায় না। দেশে বিদেশে কার কোথায় কত সম্পত্তি তা বের করা হবে। আমাদের অনেক নেতাকর্মী শহীদ হয়েছেন। আমরা এ হিসেবও একদিন তাদের কাছ থেকে নেব।

অনুষ্ঠানে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য ও সোনারগাঁ থানা বিএনপির সভাপতি আজহারুল ইসলাম মান্নান বলেন, নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দ কারো রক্তচক্ষুকে ভয় পায়না। হুমকি ধামকি দিয়ে নারায়ণগঞ্জ বিএনপি নেতা ও কর্মী সমর্থকদের ধমিয়ে রাখা যাবেনা। আমরা সবসময় এ সৈরাচারী সরকারের পতন ঘটানোর জন্য প্রস্তুত আছি বলেও বক্তব্য রাখেন তিনি।

জনসমাবেশে উপস্থিত ছিলেন, নগর বিএনপির আহবায়ক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান, সদস্য সচিব আবু আল ইউসুফ খান টিপু, জেলা বিএনপি নেতা মামুন মাহমুদ, মাসুকুল ইসলাম রাজীব, রুহুল আমিন শিকদার, রূপগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি মাহফুজুর রহমান হুমায়ুন, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা বিএনপির সভাপতি মাজেদুল ইসলাম, আড়াইহাজার পৌরসভা বিএনপির সভাপতি মোহাম্মদ উল্লাহ, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি আনোয়ার সাদাত সায়েম, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি নাহিদ হাসান ভূইয়া, জেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম-আহবায়ক খাইরুল ইসলাম সজীব, সদস্য সচিব মশিউর রহমান রনি, মহানগর যুবদলের আহবায়ক মনিরুল ইসলাম সজল, সদস্য সচিব শাহেদ আহমেদ, মহানগর ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুর রহমান সাগর, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক মাহবুবুর রহমান, সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক রফিকুল ইসলাম ও সদস্য সচিব সালাহ উদ্দিন সালু প্রমুখ।

আরো দেখুন
Advertisment
বিজ্ঞাপন

সবচেয়ে জনপ্রিয়