বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ২৫, ২০২৪
spot_img

চারদিকে কাশফুল বাতাসে দোল খাচ্ছে

মাজহারুল ইসলামঃ দু’চোখ মেলে তাকালে মনে হবে এ যেন শুভ্র আকাশ এসে মাটিতে আঁচড়ে পড়েছে। দূর থেকে দেখে বুঝার জো নেই আকাশ আর মাটির পার্থক্য। চারদিকে কাশফুল বাতাসে দোল খাচ্ছে, কিশোর ছেলেরা ফুটবল খেলায় মত্ত, বাতাসে ফুলের পাপড়ি উড়ে চোঁখে মুখে আঁচড়ে পড়ার মতো এমনই মনোমুগ্ধকর দৃশ্যের দেখা মেলে নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁ উপজেলা পিরোজপুর ইউনিয়নের ভাটিবন্দর ও কান্দারগাঁও এলাকায়।

মেঘনা নদীর তীর ঘেঁষে সবুজের সমারোহে সমৃদ্ধ সোনারগাঁ উপজেলার  পিরোজপুর ইউনিয়ন এ ভাটিবন্দর ও কান্দারগাঁও গ্রাম। মেঘনা নদীর তীরে চিকচিক করা বালির উপর কাশফুলের এ বিশাল ছড়াছড়ি যেন সোনারগাঁ উপজেলার মানুষের জন্য এক বিশাল বিনোদন কেন্দ্র।

জলজ চাদরে ঢেউ জাগে কি জাগে না! এ যেন কিশোরীর হাতের আয়না। এ আয়নায় উপুড় হয়ে অবাক চোখে তাকিয়ে আছে আকাশ। সেখানে ভেসে বেড়াচ্ছে সাদা মেঘ। মেঘনার তীরে, ভাটিবন্দর বালুর মাঠে এখনি যেন হেমন্তের হিমেল হাওয়া। হাওয়ার দোলা ছুঁয়ে যায় বুক, সাদা করে ফুটে থাকা কাশবনে। শরত পেরিয়ে হেমন্ত আসলেও যেন ছড়িয়ে থাকে  শারদীয় স্নিগ্ধতা।

নারায়ণগণঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলায় পিরোজপুর ইউনিয়নে মেঘনার পাড় ভাটিবন্দর ও কান্দারগাঁও এলাকায় চোখে পড়বে এমন মায়াবী কাশফুলের দৃশ্য। রাস্তার দু’পাশ জুড়ে যতদূর চোখ যায় শুধু শুভ্র কাশফুল। কাশফুল আর আকাশের মিতালিতে টেনে আনছে পর্যটকদের। এখানে রয়েছে দুইটি বাশের তৈরী টাওয়ার। শুধু স্থানীয়রাই নয় পার্শ্ববর্তি জেলা মুন্সিগঞ্জ, কুমিল্লা, ঢাকা থেকেও পর্যটকরা ভিড় জমাচ্ছে কাশফুল দেখতে। রাস্তার দু’পাশে প্রায় ৬শ বিঘা জমির পুরোটাই শুভ্র কাশফুলে আবৃত। বিকেল হলেই প্রিয় মানুষকে নিয়ে, পরিবারকে নিয়ে, বন্ধুদের নিয়ে অনেকেই কাশফুলের বিনোদনে মেতে উঠে। মেতে উঠে চিকচিক করা বালির উপর কিশোর ছেলেরা ফুটবল খেলায়।

সোনারগাঁ উপজেলার বিনোদন প্রিয় মানুষদের জন্য পিরোজপুর ইউনিয়নের এ কাশফুলের স্থান হয়ে উঠেছে বিনোদন কেন্দ্র। তবে এই উপজেলার মানুষদের মধ্যে বিনোদনের আমোদে-প্রমোদের চেয়ে কিছু দিন পর কাশফুলের এ মেলাকে হারানোর বিয়োগ ব্যাথায় যেন আঁচড়ে পড়বে।

কারণ দু’পাশের পুরো ৪শ বিঘা জমির মালিকানা রয়েছে ব্যক্তিমালিকানা প্রতিষ্ঠান ইউনিক ও মেঘনা গ্রুপ কোম্পানি। বিনোদন কেন্দ্র নয় বরং কারখানা ও ব্যবসায়ীক কেন্দ্র তৈরির জন্যই পুরোটা জায়গা কিনে নিয়েছে কোম্পানিগুলো।

এলাকাবাসী সাথে কথা বললে তারা জানান, দীর্ঘ প্রায় একযুগ ধরে আমাদের এ এলাকায় কোম্পানি ঢুকেছে।তারা কোন কাজ করছে না বিধায় এখানে জমিগুলো কাশফুলের বাগানে পরিনত হয়েছে। এলাকাবাসীর দাবী খুব তাড়াতাড়ি কোম্পানি যদি প্রতিষ্ঠান তৈরি করতো তাহলে হয়তো এখানে আমাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হতো।

আরো দেখুন
Advertisment
বিজ্ঞাপন

সবচেয়ে জনপ্রিয়