মঙ্গলবার, জুন ২৫, ২০২৪
spot_img

প্রতিশ্রুতিতেই রয়ে গেল জবির ডিজিটাল হাজিরা পদ্ধতি

জবি প্রতিনিধি, ঢাকাঃ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) কর্মরত কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সঠিক সময়ে দপ্তরে উপস্থিতি নিশ্চিত করতে ডিজিটাল হাজিরার জন্য ফিঙ্গারপ্রিন্ট মেশিন লাগানোর সিদ্ধান্তের ১ বছর পেরিয়ে গেলেও এখনও তা বাস্তবায়ন করতে পারেনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের উপর দায় চাপালেন জ্যেষ্ঠ শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। অনেকেই মনে করছেন কর্মকর্তাদের চাপেই এমন সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন সম্ভব হচ্ছে না।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন দপ্তরে সঠিক সময়ে কর্মকর্তা, কর্মচারীরা উপস্থিত হয় না এ নিয়ে গত বছর একটি জাতীয় দৈনিকে ‘জবিতে দেরিতে ঘুম ভাঙে কর্মকর্তাদের! শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়। এতে অফিস সময় ৮টা থেকে শুরু হলেও কেউ সকাল ১০টায়, কেউ ১১টায়, কেউ বা তার পরও আসেন বলে অভিযোগ উঠে। এছাড়া বিকাল ৪টার আগেই অনেকে অফিস ছেড়ে চলে যান। এরপর নড়েচড়ে বসে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তাই সবার নির্ধারিত সময়ে হাজিরা নিশ্চিতে ফিংগার প্রিন্ট লাগানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

গত বছরের ৩০ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এক নোটিশের মাধ্যমে আইটি সেলকে ফিঙ্গারপ্রিন্ট মেশিন বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে নির্দেশ দেয়া হয়েছিল। সেই নির্দেশনা কাগজে কলমে নির্দেশনাতেই আটকে রয়ে গেছে। ওই সময় নোটিশে বলা হয়েছিল, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সব অনুষদ, ইনস্টিটিউট, বিভাগ ও দপ্তরে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সময়মতো অফিসে উপস্থিতি নিশ্চিত করার জন্যে ফিঙ্গারপ্রিন্ট হাজিরার প্রয়োজন। আগামী সাত দিনের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইটি সেলকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য নির্দেশ দেয়া হলো। তবে এখনও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বলছে এমন একটি সিদ্ধান্ত সরকারি প্রতিষ্ঠানে বাস্তবায়ন একটু কষ্টসাধ্য।

এখনো বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন দপ্তরে, বিভাগগুলোতে গিয়ে দেখা যায় কর্মকর্তা- কর্মচারীরা ঠিক সময়ে অফিসে আসেন না। নির্দিষ্ট সময়ের আগে অফিস কক্ষ ত্যাগ করেন। এর ফলে দাপ্তরিক কাজকর্মের গতিও ধীরে চলে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিশ্ববিদ্যালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হলে দাপ্তরিক কাজকর্মে গতিশীলতা আসবে বলে মনে হয়। কিন্তু এক বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো  এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হয়নি।

এক সপ্তাহ সময় দিলেও এক বছরেও তা কেন বাস্তবায়ন হয়নি এ নিয়ে জানতে চাইলে জবি আইটি সেলের পরিচালক অধ্যাপক ড. উজ্জল কুমার আচার্য্য বলেন, এ বিষয়ে কাজ এখনো চলমান। বিষয়টি বাস্তবায়ন করতে আরো কতদিন সময়  লাগবে এ প্রশ্ন করলে তিনি বলেন এ নিয়ে বিস্তারিত তথ্য উপাচার্য বা কোষাধ্যক্ষ অথবা রেজিস্ট্রার দিতে পারবেন।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. কামালউদ্দীন আহমদ  বলেন,ডিজিটাল হাজিরার ব্যাপারে  উপাচার্য বরাবর আইটি সেল থেকে একটা রিপোর্ট দেওয়ার কথা। কাজটি কেন এখনো বাস্তবায়ন হলো না, কেন আটকে আছে আমি এ ব্যাপারে অবগত নই। তবে এ বিষয়ে পরবর্তীতে তাদের সাথে কথা বলবো।

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার প্রকৌশলী মো.ওহিদুজ্জামান এর সাথে এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে তিনি ক্ষুদেবার্তায় জানান, তিনি অসুস্থ আছেন এখন কথা বলা সম্ভব না।

আরো দেখুন
Advertisment
বিজ্ঞাপন

সবচেয়ে জনপ্রিয়