শুক্রবার, জানুয়ারি ২৭, ২০২৩
spot_img

দেড় লক্ষ মামলা বিএনপি’র সামনে হুমকি

spot_img
spot_img

সংবাদ ডেস্কঃ বিএনপি নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে “দেড় লাখ” মামলা আছে বলে দাবি করছে বিএনপির হাই কমান্ড। বাংলাদেশে গত তিন মাস ধরেই মাঠের আন্দোলনে নানা কর্মসূচি দিয়ে সরব বিএনপি। তবে দলটি দাবি করছে, এই সময়ে হঠাৎ করে দলটির নেতা-কর্মীদের নামে মামলা বেড়েছে, গ্রেফতারও হচ্ছে। যদিও দলটির নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে মামলার অভিযোগ বেশ পুরনো।

বিএনপি এসব মামলাকে তাদের ভাষায় আন্দোলন দমাতে সরকারের কৌশল হিসেবে অভিযোগ করলেও সরকারি দল আওয়ামী লীগ দাবি করছে সহিংসতা কিংবা ভাংচুরসহ বিভিন্ন অপরাধের কারণেই এসব মামলা দায়ের হয়েছে।

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ ও রূপগঞ্জসহ অন্যান্য উপজেলার বিএনপি নেতাকর্মী অনেকের বিরুদ্ধে ৫ থেকে ২৫ টি পর্যন্ত মামলা রয়েছে। ২০০৯ সাল থেকে শুরু হওয়া এসব মামলা মাথায় নিয়েই বিএনপির রাজনীতি করছেন নেতাকর্মীরা।

প্রতি মাসে মামলা হচ্ছে। এর মধ্যে বেশিরভাগই হচ্ছে নাশকতা, ককটেল বিস্ফোরণ, সরকারি কাজে বাধা দেয়া ইত্যাদি অভিযোগে। যেই মামলার কোন ভিত্তি নাই। সোনারগাঁ থানায় এমন কোন নেতা-কর্মী নাই, যার বিরুদ্ধে মামলা হয় নাই, এমনটাই জানিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক খাইরুল ইসলাম সজিব।

গেলো ১০ই ডিসেম্বর ঢাকায় বিএনপি’র বিভাগীয় কর্মসূচির আগে-পরে দলটির বেশ কয়েকজন নেতা নতুন এবং পুরাতন মামলায় গ্রেপ্তার হন। বিএনপি’র সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক রুমিন ফারহানা বলেন, দলের মহাসচিবসহ সিনিয়র অনেক নেতার নামে মামলার সংখ্যা কারো ১শ ছাড়িয়েছে, কারো ১শ’র কাছাকছি।মামলার কারণে দলটির নেতা-কর্মীরা চ্যালেঞ্জে পড়লেও মামলার ভয় আর নেতা-কর্মীদের মধ্যে নেই।

বিএনপি কিন্তু ঘুরে দাঁড়াচ্ছে। যেটা তারা(সরকার) আশা করেছিলো যে, আমরা ঘরে ঢুকে যাবো। সেটা কিন্তু হয়নি। বিএনপি’র প্রতিটা কর্মসূচিতেই এখন জনসমূদ্র। সুতরাং মামলার ভয় আমার মনে হয় না যে কর্মীরা আর পায়।

রুমিন ফারহানা বলছেন, মামলার ভয় কাটিয়ে আন্দোলনের সক্ষমতা বিএনপি’র কর্মীদের আছে এবং সাম্প্রতিক কর্মসূচিতেই তারা প্রমাণ দেখিয়ে যাচ্ছে। কর্মীরা নিজেরাই বলে যে ঘরে থাকলেও মামলা খাই, কর্মসূচিতে আসলেও মামলা খাই। তার চেয়ে কর্মসূচিতেই আসি। কারণ এখন “ডু অর ডাই” অবস্থা। এখন আমাদের নিজেদের অস্তিত্বের স্বার্থেই এই সরকারকে ফেলতে হবে। এটাই এখন কর্মীদের মূল কথা।

রুমিন ফারহানা বলছেন, বিএনপি এখন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অদীনে সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য আন্দোলন করছে এবং সেই আন্দোলন সফল হলে তার ভাষায়, এসব রাজনৈতিক মামলা এমনিতেই প্রত্যাহার হয়ে যাবে।
আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া বলছেন, তার ভাষায়, বিএনপি’র নেতাকর্মীদের নাশকতা, ভাংচুরসহ বিভিন্ন অপরাধের কারণেই এসব মামলা হয়েছে। তবে মামলা সামলে আন্দোলন অব্যাহত রাখা বিএনপি’র জন্য যথেষ্ট কঠিন হবে বলেই মনে করেন রাজনীতি বিশ্লেষক অধ্যাপক জায়েদা শারমিন। তার মতে, বিএনপি’র কেন্দ্রীয় কর্মসূচি কিংবা জেলা, বিভাগীয় কর্মসূচিতে লোকসমাগম হলেও দলটি তৃণমূল পর্যায়ে ইউনিয়নগুলোতে সেটা পারছে না। এর বড় একটা কারণ মামলা। এতগুলো মামলা একটা রাজনৈতিক দলের জন্য ট্যাকল করা টাফ হয়ে যায়। কারণ মামলা মানেই হচ্ছে এগুলোতে হাজিরা দিতে হয়, যাদের নামে মামলা তারা বাসায় থাকতে পারে না।

এছাড়াও আরো অনেক ইস্যু আছে এখানে। নিজেদের এলাকায় নেতা-কর্মীদের সংগঠিত করা-এসব কাজ মামলার কারণে কঠিন হয়ে যায়। বিএনপি অতীতেও মামলায় ভুগেছে। সুতরাং এটা দলটির আন্দোলনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হবে। (সূত্র:বিবিসি নিউজ)

spot_img

জনপ্রিয় সংবাদ