ঢাকাবুধবার , ১৩ এপ্রিল ২০২২
  1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. খেলা-ধুলা
  6. গল্প কবিতা
  7. জাতীয়
  8. তথ্য প্রযুক্তি
  9. দুর্ঘটনা
  10. ধর্ম
  11. পরিবেশ
  12. ফিচার
  13. বিনোদন
  14. বিশেষ সংবাদ
  15. মতামত

সোনারগাঁয়ে আওয়ামীলীগের দু’পক্ষের সংঘর্ষ দোকানপাট ভাংচুর লুটপাট আহত ২০

সংবাদ১৬.কম
এপ্রিল ১৩, ২০২২ ২:০২ অপরাহ্ণ
Link Copied!

সংবাদ১৬.কমঃ নির্বাচন কেন্দ্রিক বিরোধ ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।১৩ এপ্রিল বুধবার সকালে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে বারদি বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আওয়ামীলীগের দু’গ্রুপের লোকজনদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ, ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া, ভাংচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের কমপক্ষে ২০জন আহত হয়েছে।

আহতদের মধ্যে ৩জনের অবস্থা আশংকাজনক। আহতদের সোনারগাঁ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকে পুরো বারদি এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বারদি ইউনিয়নের বারদি বাজার এলাকায় নির্বাচন কেন্দ্রিক বিরোধ ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বারদী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান জহিরুল হক ও নাজমুল হক পক্ষের সাথে জাকির সরকার ও ইব্রাহিম ইবু পক্ষের বিরোধ চলে আসছিল। এ বিরোধকে কেন্দ্র করে বুধবার সকালে জহিরুল হক ও নাজমুল পক্ষের তাজুল ইসলাম জাকির পক্ষের হাসানকে মারধর করে।

এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা চলে। এক পর্যায়ে জাকির সরকার ও ইব্রাহিম ইবু ঘটনাস্থলে এসে এ বিষয়ে জানতে চাইলে জহিরুল হক ও নাজমুলের লোকজন অতর্কিত হামলা চালায়। পরে উভয় পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র, লোহার রড, টেঁটা, রামদা, লাঠিসোটায় সজ্জিত হয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষে জাকির পক্ষের জাকির সরকার, জামাল, মাসুম সরকার, বাসেদ সরকার, মামুন সরকার, সামসুল, হুমায়ুন সরকার ও হাসান। জহিরুল পক্ষের তাইজুল ইসলাম, হযরত আলীসহ ২০ জন আহত হয়। আহতদের সোনারগাঁ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে অবস্থা আশংকাজনক হওয়ায় জাকির সরকার, জামাল, সামসুলকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এদিকে সংঘর্ষের পর বারদি বাজারে জহিরুল হকের লোকজন উত্তেজিত হয়ে জাকির সরকারের পক্ষের মামুন সরকার, মাজহারুল সরকার, হাসান, জাহাঙ্গীরসহ ৫-৬ জনের দোকান ভাংচুর ও লুটপাট চালায়। ঘটনার পর ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়াও ২ জনের বাড়িঘর ভাংচুর করা হয়।

জাকির সরকার ও ইব্রাহিম ইবুর অভিযোগ, নির্বাচনের পর থেকে বারদি ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান জহিরুল হক তার সম্পর্কে ভাতিজা নাজমুল হককে নির্বাচন প্রভাবিত করে নির্বাচিত করে। পরবর্তীতে বারদি বাজারে আমাদের লোকজনকে কোনঠাষা করে রাখে। এ নিয়ে উভয় পক্ষের লোকজনের মধ্যে সংঘর্ষ, দোকানপাট, বাড়িঘর ভাংচুর ও লুটপাট করে। সংষর্ষের ঘটনায় আমাদের ১৫ জন আহত হয়।
বারদি ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান জহিরুল হকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, বারদি মার্কাজ মসজিদের পাশে একটি সরকারী পুকুর রয়েছে। ওই পুকুরে মাছ চাষ করে মসজিদের আয় ও ব্যয় নির্বাহ করা হয়। সম্প্রতি জাাকির সরকারের পক্ষের আমিনুল ইসলাম, মাসুদুর রহমান ও মামুন নামের তিনজন ওই পুকুর লিজ নিতে উঠে পড়ে লাগে। এতে কথাকাটাকাটি হওয়ায় এক পর্যায়ে সংষর্ষের ঘটনায় আমাদের ৫ জন আহত হয়েছে।

সোনারগাঁ থানার ওসি মোহাম্মদ হাফিজুর রহমান বলেন, সংঘর্ষের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আছে। ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এখনো কোন পক্ষ অভিযোগ দায়ের করেনি, অভিযোগ পেলে আইনী ব্যবস্থা নেবো।