ঢাকাবৃহস্পতিবার , ১৩ অক্টোবর ২০২২
  1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. খেলা-ধুলা
  6. গল্প কবিতা
  7. জাতীয়
  8. তথ্য প্রযুক্তি
  9. দুর্ঘটনা
  10. ধর্ম
  11. পরিবেশ
  12. ফিচার
  13. বিনোদন
  14. বিশেষ সংবাদ
  15. মতামত

নিরপেক্ষ ও তত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া কোন নির্বাচন হবে না: ফখরুল

সংবাদ১৬.কম
অক্টোবর ১৩, ২০২২ ৭:৫৮ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

সংবাদ ডেস্কঃ চট্টগ্রাম নগরীর পলো গ্রাউন্ড প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকারের দাবিসহ বিভিন্ন ঘটনার প্রতিবাদে চট্টগ্রামে বিভাগীয় সমাবেশ করেছে বিএনপি। এতে দলটির শীর্ষ নেতারা বলেছেন, চট্টগ্রামে শুরু হওয়া এ আন্দোলন সারা দেশে ছড়িয়ে দিয়ে সরকারের পতন ঘটানো হবে।

বুধবার বিকেলে নগরীর পলো গ্রাউন্ড মাঠে অনুষ্ঠিত সমাবেশে চট্টগ্রামসহ ফেনী, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, কক্সবাজার, বান্দরবান, রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ি জেলার নেতা-কর্মীরা অংশ নেন। বিএনপি নেতাদের দাবি, সমাবেশে যোগ দিয়েছিলেন লক্ষাধিক মানুষ। তারা সকাল থেকেই চট্টগ্রাম শহরে প্রবেশ করতে থাকেন। তবে এ সময় নানা জায়গায় পুলিশ, আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতা-কর্মীরা বাধা দেন। সে বাধা পেরিয়ে বিএনপির নেতা-কর্মীরা গাড়ি ও হেঁটে সমাবেশস্থলে আসেন। সেখানে কনটেইনারবাহী গাড়ির ওপর বানানো হয় অস্থায়ী মঞ্চ।

সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, ৫০ বছর আগে আমরা স্বাধীনতার জন্য যুদ্ধ করেছিলাম। আজ আমাদের আবার যুদ্ধ করতে হচ্ছে। এই লড়াইয়ে আমাদের জিততেই হবে। হয়তো আমরা জিতব, না হয় মরে যাব। কেননা জয় লাভ যদি করতে না পারি তাহলে দেশের স্বাধীনতা, গণতন্ত্র থাকবে না। কলোনির (উপনিবেশ) মতো আমাদের বাস করতে হবে।

দেশে নিরপেক্ষ ও তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া কোনো নির্বাচন হবে না বলে মন্তব্য করেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, এই সরকার অনির্বাচিত। এই সরকারের কোনো মেন্ডেট নেই। অবস্থা এমন হয়েছে র‌্যাবকে মার্কিন সরকার নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। তবে নিষেধাজ্ঞা দিলে হবে না। সরকারকে নিষেধাজ্ঞা দিতে হবে, শেখ হাসিনাকে নিষেধাজ্ঞা দিতে হবে। কারণ শেখ হাসিনার সরকারের নির্দেশে গুমের ঘটনা ঘটেছে, বিচারবহির্ভূত হত্যার ঘটনা ঘটছে।

নিত্যপণ্যসহ বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দাম বৃদ্ধির সমালোচনা করে মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, ‘আওয়ামী লীগের দানবেরা সব কিছু লুট করে বিদেশে পাচার করছে। দেশের টাকা চুরি করে তারা কানাডার বেগম পাড়ায় বাড়ি বানায়, মালয়েশিয়ায় সেকেন্ড হোম করে আর দেশের মানুষ না খেয়ে মরে। সব কিছুর দাম এখন তিন-চারগুণ বেড়েছে। বিদ্যুতের দামও নাকি আরেক দফায় বাড়াবে।

সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, আন্দোলনের ফল খুব শিগগিরই পাওয়া যাবে। জীবন দেয়ার জন্য বিএনপির কর্মীরা প্রস্তুত আছেন। এই মাঠে ৬ লাখ মানুষ সমবেত হয়েছেন। মাঠের বাইরেও কয়েক লাখ মানুষ আছেন। তাদের রায় হলো, শেখ হাসিনার সরকার এখনই পদত্যাগ করুন।
যারা হামলা করছে তাদের তালিকা করার জন্য বিএনপির নেতা-কর্মীদের নির্দেশ দেন দলটির স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন। তিনি বলেন, গত ১৩-১৪ বছর ধরে দলের নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা করে আসছে আওয়ামী লীগ। মামলা-মোকাদ্দমা দিয়ে হয়রানিও করা হচ্ছে। কিন্তু এরপরও বিএনপির কোনো নেতা-কর্মী আওয়ামী লীগে যোগ দিয়েছেন এটা কেউ বলতে পারবে না।

বিভিন্ন স্থানে হামলার প্রসঙ্গ টেনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য গয়েশ্বরচন্দ্র রায় যথাযথভাবে দায়িত্ব পালন করতে পুলিশ সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানান। বলেন, পুলিশ ভাইদের বলব-সার্ভিস রুলস মেনে চাকরি করেন। আপনারা প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী-জনগণের সেবক, শেখ হাসিনার কর্মচারী নন। চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সভাপতি শাহাদাত হোসেনের সভাপতিত্বে সমাবেশে দলটির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা বক্তব্য দেন। এদিকে সকাল থেকে শহরে বিএনপির নেতারা জড়ো হওয়ায় দুপুর থেকে ব্যাপক যানজট সৃষ্টি হয়। বিএনপির নেতা-কর্মীরা বিআরটিসির দ্বিতল বাসসহ নানা গাড়ি ভাড়া করে সমাবেশে আসায় গণপরিবহন সংকট ছিল প্রকট। এতে স্কুল-কলেজফেরত শিক্ষার্থী, তাদের অভিভাবক ও পথচারীদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়।

বিএনপির চট্টগ্রাম বিভাগীয় সমাবেশে যাওয়ার পথে হামলার শিকার হওয়ার অভিযোগ করেছেন দলটির ফেনী জেলা শাখার নেতা-কর্মীরা। এ সময় তাদের বহনকারী অন্তত ১০টি গাড়ি ছাত্র ও যুবলীগের নেতা-কর্মীরা ভাঙচুর করেছেন বলেও দাবি করা হয়েছে। বিএনপির নেতাদের অভিযোগ, সমাবেশে যোগ দিতে যাওয়ার সময় চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে হামলার ঘটনা ঘটে। এতে তাদের বেশ কয়েকজন নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন। ফেনী জেলা বিএনপির সদস্যসচিব আলাল উদ্দিনের অভিযোগ, মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে গাড়িবহরে লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলা করেন ছাত্র ও যুবলীগের নেতা-কর্মীরা। মূলত মহাসড়কে পুলিশ গাড়ি থামায় আর ছাত্রলীগ হামলা করে। তবে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি তানবীর হোসেন। তিনি বলেন, ‘বিএনপির নেতা-কর্মীদের মধ্যে চরম মাত্রায় অন্তর্কোন্দল আছে। সেসব থেকে হয়তো তারা নিজেদের মধ্যে মারামারি করতে পারে। ছাত্রলীগের কেউ কোনো বাধা দেয়নি।

হামলার শিকার ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. আকবর বলেন, মিরসরাইয়ে নিজামপুর কলেজের সামনে তার গাড়িবহরে হামলা চালিয়ে সাতটি গাড়ি ভাঙচুর করেছে ছাত্রলীগ-যুবলীগ। এতে তাদের অর্ধশতাধিক নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন।

মিরসরাই থানার ওসি কবির হোসেন বলেন, পুলিশের গাড়ি থামানো ও হামলার অভিযোগ মিথ্যা। তারা (বিএনপির লোকজন) সকালে শহরে যাওয়ার পথে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের ওপর গাড়ি তুলে দিয়ে একজনকে গুরুতর আহত করেছেন।

ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের ওপর গাড়ি তুলে দেয়ার ঘটনায় একটি গাড়ি আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন জোরারগঞ্জ থানার ওসি নূর হোসেন। সূত্র: দৈনিক বাংলা