ঢাকাবুধবার , ২৩ নভেম্বর ২০২২
  1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. খেলা-ধুলা
  6. গল্প কবিতা
  7. জাতীয়
  8. তথ্য প্রযুক্তি
  9. দুর্ঘটনা
  10. ধর্ম
  11. পরিবেশ
  12. ফিচার
  13. বিনোদন
  14. বিশেষ সংবাদ
  15. মতামত

চেক ডিজঅনার মামলা ও সাজা স্থগিত করেছে হাইকোর্ট

সংবাদ১৬.কম
নভেম্বর ২৩, ২০২২ ৫:৪৫ অপরাহ্ণ
Link Copied!

সংবাদ ডেস্কঃ এখন থেকে কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান ঋণ আদায়ের জন্য কারও বিরুদ্ধে “চেক ডিজঅনার” (প্রত্যাখ্যান) মামলা করতে পারবে না বলে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। এ সংক্রান্ত মামলার আপিল শুনানি নিয়ে বিচারপতি মোঃ আশরাফুল কামালের হাইকোর্ট বেঞ্চ এই রায় দেন।
রায়ের বিষয়ে আইনজীবী আরিফুজ্জামান তুহিন জানান, ঋণ আদায়ের জন্য চেক ডিজঅনারের অভিযোগ তুলে কোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠান বা ব্যাংক কারও বিরুদ্ধে মামলা করতে পারবে না। এ সংক্রান্ত সব মামলার কার্যক্রম এবং সাজা স্থগিত করেছে আদালত।

ব্র্যাক ব্যাংকের এক মামলায় মোঃ আলী নামে এক ব্যক্তির ছয় মাসের কারাদণ্ড এবং দুই লাখ ৯৫ হাজার ৯০৪ টাকা অর্থদণ্ড হয়। এ সাজার বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল করেন মোহাম্মদ আলী। তার সেই আপিলের শুনানি শেষে বিচারিক আদালতের সাজা স্থগিত করে ওই রায় দেন উচ্চ আদালত।

আদালতের রায়ে বলা হয়, ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ একটি চুক্তির মাধ্যমে নেয়া হয়ে থাকে। ব্যাংকের কিছু দুর্নীতিবাজ, অসাধু কর্মকর্তা নিজেদের স্বার্থে, তাদের গুপ্ত এজেন্ডা বাস্তবায়নে চেকের অপব্যবহার করে এসব মামলা করে থাকে। তাদের ব্যবহার দাদন ব্যবসায়ীদের মতো। আদালত আরও বলেন, ঋণের বিপরীতে ব্ল্যাংক চেক নেয়াটাই বেআইনি। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো দীর্ঘদিন ধরে এ বেআইনি কাজ করে আসছে। ঋণ আদায়ের জন্য শুধু ২০০৩ সালের অর্থঋণ আইনে বর্ণিত উপায়ে অর্থঋণ আদালতে মামলা করা যাবে। বর্তমানে আদালতে চলমান ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের করা সব চেক ডিজঅনার মামলার কার্যক্রম বন্ধ থাকবে বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে।

আদালতে মোহাম্মদ আলীর পক্ষে আইনজীবী ছিলেন আব্দুল্লাহ আল বাকী। ব্র্যাক ব্যাংকের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী আরিফুজ্জামান তুহিন। রায়ে হাইকোর্ট নিম্নআদালতের প্রতি নির্দেশনা দিয়ে বলেন, আজ থেকে কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান যদি চেক ডিজঅনার মামলা করে তাহলে আদালত তা সরাসরি খারিজ করে দেবেন। একইসঙ্গে তাদেরকে ঋণ আদায়ের জন্য অর্থঋণ আদালতে পাঠিয়ে দেবেন।

আদালত বলেন, ব্যাংক হওয়ার কথা ছিল গরিবের বন্ধু, কিন্তু তা না হয়ে ব্যাংক ও বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান গরিবের রক্ত চুষছে। এটা হতে পারে না। যারা হাজার কোটি টাকা ঋণ নিয়ে খেলাপি হচ্ছে ব্যাংক তাদের ঋণ মওকুফ করার কথা শুনি। কিন্তু কোনো গরিবের ঋণ মওফুফ করার কথা কোনোদিন শুনিনি। নীলকর চাষিদের মতো, দাদন ব্যবসায়ীদের মতো যেনতেন ঋণ আদায় করাই তাদের লক্ষ্য।

আদালত বলেন, ঋণ আদায়ের জন্য অর্থঋণ আইনে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান মামলা দায়ের না করে চেক ডিজঅনার মামলা করছে। এ কারণে আমাদের ক্রিমিনাল সিস্টেম প্রায় অকার্যকর হয়ে গেছে। তাই এখন থেকে ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান শুধুমাত্র অর্থঋণ আদালতে মামলা দায়ের করতে পারবে। অন্যকোনো আইনে নয়।

ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি হাইকোর্টের রায়ের আলোকে নির্দেশনা জারি করতে বাংলাদেশ ব্যাংকের গর্ভনরকে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।