ঢাকাবৃহস্পতিবার , ৮ সেপ্টেম্বর ২০২২
  1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. খেলা-ধুলা
  6. গল্প কবিতা
  7. জাতীয়
  8. তথ্য প্রযুক্তি
  9. দুর্ঘটনা
  10. ধর্ম
  11. পরিবেশ
  12. ফিচার
  13. বিনোদন
  14. বিশেষ সংবাদ
  15. মতামত

কক্সবাজারে নারী কেলেঙ্কারি আর নানা অপরাধের মূল হোঁতা জহির

সংবাদ১৬.কম
সেপ্টেম্বর ৮, ২০২২ ৭:৪৮ অপরাহ্ণ
Link Copied!

মোঃ মনসুর আলম মুন্না, কক্সবাজারঃ
ধারাবাহিক পর্ব- এক
অপরাধ জগতের অন্যতম নাম জহির, রামরাজত্য আধিপত্য বিস্তার করেছে বাদশাহঘোনা। কক্সবাজার ঝিলংজা ইউনিয়নের পুলিশ লাইনের পিছনে রয়েছে তার অপরাধের একাধিক বন্দিশালা বা টর্চার সেল । তাঁর সেন্ডিকেটের অসংখ্য নারী রয়েছে। যাদেরকে দিয়ে চলে এইসব অপরাধ। আর এসব নারীদের সাথে তার যৌন সম্পর্ক পরকীয়ার চিত্র যেন নিত্য দিনের চরিত্র । দৃশ্যমান কোনো পেশা না থাকলেও তার রয়েছে প্রচুর জায়গা অর্থ সম্পদ।

মাদক বিকিকিনি করতেও সে একটি আলাদা বাহিনী তৈরি করেছে। সারাদেশে তার নেতৃত্বে ইয়াবা ফেনসিডিলসহ নানা ধরনের মাদকের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করে সাপ্লাই দিচ্ছে জহির বাহিনীর অসংখ্য বখাটে যুবক। টেকনাফ থেকে মাদক বিক্রেতারা তার কাছে মাদক দিতে আসলে তাদের কাছ থেকে এসব ইয়াবা ছিনিয়ে নিয়ে তাদেরকে মারধর করে তাড়িয়ে দেন বলেও অভিযোগ তার অহরহ‌। সেই সাথে নারী পাচারকারীতেও জড়িত বলে অভিযোগে তার নাম বারংবার উঠে এসেছে।

জহিরের একাধিক বাহিনী দিয়ে জমি জবরদখল ও জমি ক্রয়- বিক্রির নামে বিভিন্ন মাধ্যমে ফায়দা লুট করা । বাদশা ঘোনা এলাকায় কেউ জায়গা ক্রয় করলে জহির বাহিনীকে মোটা অঙ্কের চাঁদা দিতেই হয়। আর না হয় তার বাহিনী দিয়ে ক্রয়কৃত জায়গায় হামলা চালিয়ে নিজের দখলে নিয়ে নেয়। আর সরকারী জায়গা দখল করে গন্ডা,ও কাটায় স্টাম্প মূলে বিক্রি করে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। আবার এসব জায়গা একাধিকবার বিক্রি করে নৈরাজ্য সৃষ্টি করছে।

অনুসন্ধানে জানা যায় যে, জহির বাহিনীর এসব বেপরোয়া অপরাধের মূল শেল্টার দাতা হিসেবে কাজ করছে তার আপন ভাই সবুজ। সবুজ পৌর মেয়রের নাম বিক্রি করে তার ভাইকে দিয়ে এসব কর্মকাণ্ড করার সুযোগ করে দেয় বলে জানান স্থানীয় সচেতন মহল। ডজনেরও অধিক মামলা নিয়ে মাথা ঘামানোর প্রয়োজন মনে করেনা। যা সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করে পৌর মেয়রের নাম ব্যবহার তার তার ভাই সবুজ । তবে তার ভয়ে অনেকেই এসব বিষয়ে মুখ খুলতে সম্পূর্ণ নারাজ।

গত দেড় মাস আগেই তার অভিনব কৌশলে স্থানীয় এক গৃহবধুকে তার স্বামীকে লেলিয়ে দিয়ে বেদম মারধর করিয়ে দীর্ঘদিন হাসপাতাল ভর্তি করান। পরবর্তী জানতে পারলাম মহিলাটি তার অবৈধ কাজে সাড়া না দেয়ায় নিজেই এ ঘটনা ঘটিয়েছে। তবে নির্যাতিত নারী জহিরের ভয়ে মুখ খুলতে সম্পূর্ণ নারাজ হলেও স্থানীয়ভাবে বেশ কয়েকজনের তথ্যে মতে আসল রহস্য বেরিয়ে আসে । তার সাথে অনৈতিক সম্পর্ক না ঘটালে সে সর্বোচ্চ চেষ্টা করে তার আয়ত্বে এনে মহিলাকে বিধবা করে ছাড়ে। প্রসঙ্গত কারণে ভোক্তভোগী ঐ নারীর নাম উল্লেখ করা হয়নি। তবে প্রতিবেদকের কাছে ঐ নারীর একটি নির্যাতনের ভিডিও ফুটেজও সংরক্ষিত রয়েছে । তবে ঘটনাটি অন্যভাবে প্রভাবিত করতে কিছু ভুঁইফোড় সাংবাদিককে মিথ্যা তথ্য দিয়ে জহির সমাজের প্রভাবশালী ও জনপ্রিয় সমাজপতি বনতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

জহির বাহিনীর কাছে শতশত মানুষ জিম্মি হয়ে পড়ছে। জহির ও তার ভাই সবুজের বিরুদ্ধে কেউ কথা বললেই যেন নেমে আসে অকাল। বাহিনীর মাধ্যমে ধরে নিয়ে অমানুষিক নির্যাতন, মাদক দিয়ে ফাঁসানো, দেশীয় অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে নারীদের দিয়ে অনৈতিক ছবি তুলা। আর এইসব ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করা। আর খালি স্টাম্পে সই নিয়ে তার কাছে জিম্মি করা। সবমিলিয়ে যেন এক অপরাধ‌ জগতের অন্যতম মাফিয়া এই জহির।

দীর্ঘদিন প্রশাসনের কাছে চোখ ফাঁকি দিয়ে এবং কিছু অসাধোপায়ে টাকার বিনিময়ে নিজেকে মহান ব্যক্তি পরিচয় বহন করে এই জহির। কিন্তু তার বেপরোয়া এসব কর্মকাণ্ডের লুমোহর্ষক তথ্যের বর্ননা দিনদিন যখন বেরিয়ে আসছে তখন থেকেই শুরু হয় বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতার দরবারে ধর্ণা দেয়।
এদিকে জহিরের ভাই সবুজ কক্সবাজার পৌরসভার মেয়রের খামার প্রকল্পে চাকরি করার সুবাদে নিজেকে জেলার শীর্ষ নেতার কাছের লোক ও জেলা যুবলীগের নেতা পরিচয় দিয়ে নামে বেনামে অবৈধ পন্থায় বহু টাকার পাহাড় বানিয়েছে। জহির দেখতে পীরের মতো হলেও তার ভিতরে লুকিয়ে আছে অগনিত রহস্য। যা উদঘাটন করতেও সহজবোধ্য নয়।

এবিষয়ে জহিরের সাথে কথা বলে জানা যায় যে, তার বিরুদ্ধে আনা সমস্ত অভিযোগ বানোয়া টু ভিত্তিহীন যা তাকে সমাজে এবং আইনের কাছে অপরাধী বানাতে কিছু কুচক্রি মহল তার বিরুদ্ধে উঠে পড়ে লেগেছে। তিনি আরো বলেন তার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে সমাজের কিছু অসাধু ব্যক্তি তাহাকে বিভিন্ন উপায়ে ও বিভিন্ন মাধ্যমে মিথ্যা এবং ভুল তথ্য দিয়ে অপপ্রচার চালাচ্ছে। যার জন্য তাদের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই সে দুই তিনটি মামলা করার কথাও স্বীকার করেন। তার ভাই সবুজের কাছে বারবার মুঠোফোন যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেও সবুজ কল রিসিভ না করাতে এ বিষয়ে তার কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

জহির ও সবুজ দুইজনের বিষয়ে কক্সবাজার পৌরসভার মেয়র ও কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করা হলে কল রিসিভ না করাতে কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

কক্সবাজার সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি তদন্ত মোহাম্মদ সেলিম এর কাছে জানতে চাইলে তিনি ব্যস্থ দেখিয়ে মোবাইল কেটে দেওয়ার কারণে এবিষয়ে কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।